আজকের তারিখঃ 27 অক্টোবর, 2026 সময়ঃ 5:58
লগইন
9+
অনলাইন সংস্করণ 4 মিনিটে পড়ুন ARTICLE

জিয়াউল আহসানের মামলায় নতুন সিদ্ধান্ত, কারাগার থেকে ভার্চুয়াল হাজিরা

Front line Bangladesh 13 Oct, 2026 • 12:36 PM
ছবির ক্যাপশন: জিয়াউল আহসানের মামলায় নতুন সিদ্ধান্ত, কারাগার থেকে ভার্চুয়াল হাজিরা

আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে গুম ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেওয়া তদন্ত কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলামের জেরা শুরু হচ্ছে আজ। নিরাপত্তার কারণে জিয়াউল আহসানকে কারাগারে রেখেই ভার্চুয়ালি বিচারকাজ পরিচালনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ এ মামলার কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন বিচারিক প্যানেলে তদন্ত কর্মকর্তাকে জেরা করবেন আসামিপক্ষের আইনজীবীরা।

প্রসিকিউটর গাজী এম এইচ তামীম জানান, জিয়াউল আহসানের নিরাপত্তাঝুঁকির বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে তাকে কারাগারে রেখেই ভার্চুয়ালি হাজির করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। কারাগার ও ট্রাইব্যুনালে প্রয়োজনীয় অডিও-ভিজ্যুয়াল ব্যবস্থা থাকায় সেখান থেকেই তিনি বিচারকাজে অংশ নিতে পারবেন।

গত ৮ অক্টোবর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা রফিকুল ইসলামের জবানবন্দি গ্রহণ শেষ হয়। তৃতীয় দিনের সাক্ষ্যে তিনি জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অপকর্মের অভিযোগ তুলে ধরেন। তাঁর জবানবন্দিতে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের পর সেগুলো আড়াল করতে লোকদেখানো প্রশাসনিক তদন্ত পরিচালনার অভিযোগও উঠে আসে।

তদন্ত কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, প্রকৃত অপরাধীদের আড়াল করতে নিয়ন্ত্রিত প্রশাসনিক তদন্তের আশ্রয় নেওয়া হতো। প্রকৃত মৃত্যুর কারণ গোপন করে মিথ্যা বা ভুল ময়নাতদন্ত ও পুলিশ প্রতিবেদন তৈরিতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বাধ্য করার অভিযোগও করেন তিনি।

তদন্ত কর্মকর্তার সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হওয়ার পর তাঁকে জেরার জন্য আজকের দিন ধার্য করেন ট্রাইব্যুনাল। মামলার ১৫তম সাক্ষী রফিকুল ইসলামের জবানবন্দি গ্রহণ শুরু হয়েছিল গত ৩০ সেপ্টেম্বর। জিয়াউল আহসানের পক্ষে আইনজীবী সাহিদুর রহমান, নাজনীন নাহারসহ একটি আইনজীবী প্যানেল আইনি লড়াই করছেন।

এর আগে গত ২৭ সেপ্টেম্বর মামলার ১৪তম সাক্ষী কামরুল ইসলামের জবানবন্দি গ্রহণ করা হয়। একই দিন র‌্যাবের সাবেক কর্মকর্তা মেজর (অব.) সাব্বির রহমানের জেরা শেষ হয়। প্রসিকিউশনের দাবি, সাব্বির রহমান ছিলেন মামলার সর্বশেষ চাক্ষুষ সাক্ষী।

জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে তিন অভিযোগ

প্রসিকিউশন জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট তিনটি অভিযোগ এনেছে।

প্রথম অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০১১ সালের ১১ জুলাই রাতে গাজীপুর সদর থানার পুবাইলে সড়কের পাশে জিয়াউল আহসানের সরাসরি উপস্থিতিতে সজলসহ তিনজনকে হত্যা করা হয়।

দ্বিতীয় অভিযোগে ২০১০ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলার চরদুয়ানী খালসংলগ্ন বলেশ্বর নদীর মোহনায় নজরুল, মল্লিকসহ ৫০ জনকে হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে।

তৃতীয় অভিযোগে একই সময়ে তথাকথিত বনদস্যু দমনের আড়ালে আরও ৫০ জনকে হত্যার কথা উল্লেখ করেছে প্রসিকিউশন। অভিযোগ অনুযায়ী, বরগুনার বলেশ্বর নদী ও বাগেরহাটের শরণখোলায় সুন্দরবনের বিভিন্ন এলাকায় এসব হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়। এ অভিযোগে মাসুদসহ ৫০ জনের প্রাণ নেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

এসব অভিযোগের ভিত্তিতে করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় গত বছরের ১৭ ডিসেম্বর জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে তিনটি অভিযোগ আমলে নেন ট্রাইব্যুনাল-১। একই দিন তাঁর বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগপত্র দাখিল করে প্রসিকিউশন। পরে ২৩ ডিসেম্বর তাঁকে এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেওয়া হয়।

নিরাপত্তাশঙ্কা থেকে ভার্চুয়াল হাজিরার সিদ্ধান্ত

প্রসিকিউটর গাজী এম এইচ তামীম জানান, আগের শুনানিতে জিয়াউল আহসান নিজের জীবননাশের আশঙ্কার কথা উল্লেখ করে একটি আবেদন করেন। কারাগার থেকে তাঁকে যে প্রিজন ভ্যানে ট্রাইব্যুনালে আনা হয়, সেটির পরিবর্তে অন্য আসামিদের সঙ্গে একই প্রিজন ভ্যানে আনার আবেদন জানিয়েছিলেন তিনি।

তবে নিরাপত্তার ঝুঁকি বিবেচনায় ওই আবেদনে আপত্তি জানায় প্রসিকিউশন। তাদের বক্তব্য, নিরাপত্তাঝুঁকি তৈরি হলে একই ভ্যানে থাকা জিয়াউল আহসানসহ অন্য বন্দিদের নিরাপত্তাও বিঘ্নিত হতে পারে।

এ পরিস্থিতিতে তাঁকে ট্রাইব্যুনালে আনার পরিবর্তে কারাগারে রেখেই ভার্চুয়ালি হাজির করার প্রস্তাব দেয় প্রসিকিউশন। এ জন্য প্রচলিত আইন ও ট্রাইব্যুনাল আইনের বিধান অনুসরণের আবেদন জানানো হয়।

তামীম বলেন, কারাগার ও ট্রাইব্যুনালে ভার্চুয়াল শুনানির জন্য প্রয়োজনীয় অডিও-ভিজ্যুয়াল ব্যবস্থা রয়েছে। এর মাধ্যমে জিয়াউল আহসান বিচারকের বক্তব্য, তাঁর আইনজীবীদের বক্তব্য এবং প্রসিকিউশনের বক্তব্য শুনতে পারবেন। একইভাবে কারাগার থেকে তাঁর বক্তব্যও ট্রাইব্যুনালের বিচারক ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা শুনতে পারবেন।

করোনাকালীন সময়ে ভার্চুয়ালি আদালতের কার্যক্রম পরিচালনার নজির তুলে ধরে প্রসিকিউটর জানান, ওই সময়ে আসামি, সাক্ষী এমনকি বিচারকেরাও ভার্চুয়ালি আদালতের কার্যক্রমে অংশ নিয়েছেন।

প্রসিকিউশনের আবেদন মঞ্জুর করে ট্রাইব্যুনাল জিয়াউল আহসানকে কারাগারে রেখেই ভার্চুয়ালি হাজির করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানান তামীম। এর ধারাবাহিকতায় আজ তদন্ত কর্মকর্তাকে জেরার মধ্য দিয়ে মামলার পরবর্তী কার্যক্রম এগিয়ে যাওয়ার কথা রয়েছে।

ট্যাগ
জিয়াউল আহসানের মামলায় নতুন সিদ্ধান্ত কারাগার থেকে ভার্চুয়াল হাজিরা
মন্তব্য করুন
Front line Bangladesh
অনলাইন সংস্করণ • 13 Oct, 2026 • 12:36 PM
বিজ্ঞাপন (Compact)