নিজস্ব প্রতিবেদক
বিডিআর হত্যাকাণ্ডের প্রত্যক্ষদর্শী নজরুল ইসলামসহ চারজনকে বলেশ্বর নদীতে নিয়ে চোখ বেঁধে গুলি, পেট চিরে সিমেন্টের বস্তা বেঁধে পানিতে ফেলে দেওয়া হয়েছিল বলে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্য দিয়েছেন মেজর সাব্বির।
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) ট্রাইব্যুনাল-১-এ গুমের মামলায় সাক্ষ্য দেন এই প্রত্যক্ষদর্শী সাবেক সেনা কর্মকর্তা।
মেজর সাব্বিরের সাক্ষ্য অনুযায়ী, ২০১০ সালের মে মাসে র্যাবের ইন্টেলিজেন্স উইংয়ের তৎকালীন প্রধান জিয়াউল আহসানের উপস্থিতি ও নির্দেশে র্যাব-৮-এর ইন্টেলিজেন্স উইংয়ের সদস্যরা ওই হত্যাকাণ্ড ঘটান।
তিনি জানান, পাথরঘাটার চরদুয়ানির বলেশ্বর নদীতে ফিশিং ট্রলারে করে চারজনকে নিয়ে যাওয়া হয়। এ সময় তাদের মুখ ও পুরো শরীর ঢেকে রাখা হয়েছিল। পরে তাদের নৃশংসভাবে হত্যা করে নদীতে ফেলে দেওয়া হয় বলে আদালতে বর্ণনা দেন তিনি।
একই কায়দায় ২০১০ সালে আরও একজনকে হত্যা করে নদীতে ফেলে দেওয়া হয়েছিল বলেও সাক্ষ্য দেন সাবেক এই সেনা কর্মকর্তা।
মেজর সাব্বির আরও জানান, ২০১১ সালে জিয়াউল আহসানের কথিত ‘গলফ অপারেশনে’ জড়িত ট্রলার মাঝিদের মধ্যে আলকাস মাঝিকেও গুম করে হত্যা করা হয়।
গুমের মামলায় এরই মধ্যে জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে সাবেক সেনাপ্রধান ইকবাল করিম ভুইয়া, হত্যাকাণ্ডের প্রত্যক্ষদর্শী সেনা কর্মকর্তা এবং র্যাবের কর্মকর্তারা সাক্ষ্য দিয়েছেন।
এরপর মামলাটিতে তদন্ত কর্মকর্তার সাক্ষ্য নেওয়া হবে। পরে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করা হবে। গত ১৬ বছরে এটিই প্রথম গুমের মামলা, যার বিচার শেষ পর্যায়ে রয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।