আজকের তারিখঃ 27 অক্টোবর, 2026 সময়ঃ 4:49
লগইন
9+
অনলাইন সংস্করণ 4 মিনিটে পড়ুন ARTICLE

এলডিসি উত্তরণ তিন বছর পেছানোর সিদ্ধান্ত চলতি মাসেই আসতে পারে: বাণিজ্যমন্ত্রী

Front line Bangladesh 19 Oct, 2026 • 06:23 PM
ছবির ক্যাপশন: এলডিসি উত্তরণ তিন বছর পেছানোর সিদ্ধান্ত চলতি মাসেই আসতে পারে: বাণিজ্যমন্ত্রী

স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে বাংলাদেশের উত্তরণ তিন বছর পিছিয়ে দেওয়ার বিষয়ে চলতি অক্টোবরের মধ্যেই সিদ্ধান্ত আসতে পারে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। একই সঙ্গে উত্তরণের আগেই ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সঙ্গে মুক্তবাণিজ্য চুক্তির আলোচনা শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে সরকার।

সোমবার (১৯ অক্টোবর) ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরামের (ইআরএফ) সম্মেলনকক্ষে বাংলাদেশের এলডিসি উত্তরণের চ্যালেঞ্জ ও করণীয় শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ইআরএফ ও বাংলাদেশ ফরেন ট্রেড ইনস্টিটিউট (বিএফটিআই) যৌথভাবে এ সেমিনারের আয়োজন করে।

অক্টোবরেই সিদ্ধান্তের আশা

এলডিসি উত্তরণ পেছানোর প্রক্রিয়ার অগ্রগতি তুলে ধরে বাণিজ্যমন্ত্রী জানান, বাংলাদেশ ইতোমধ্যে জাতিসংঘের কমিটি ফর ডেভেলপমেন্ট পলিসির (সিডিপি) ধাপ অতিক্রম করেছে। পরবর্তী সময়ে জাতিসংঘের অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদে (ইকোসক) তিন বছর সময় বাড়ানোর প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়েছে।

তার ভাষ্য অনুযায়ী, ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোও বাংলাদেশের বাড়তি সময় পাওয়ার বিষয়ে একমত হয়েছে।

মন্ত্রী বলেন, ‘আমি খুবই আশাবাদী, সামনের সপ্তাহ বা তার পরের সপ্তাহে আমরা জিনিসটার একটা নিষ্পত্তি দেখব।’

আগামী ২৪ নভেম্বরের নির্ধারিত সময়সীমার আগেই এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত পাওয়া যাবে বলে প্রত্যাশা করেন তিনি।

তিন বছর সময় বাড়ানোর যৌক্তিকতা ব্যাখ্যা করে মন্ত্রী বলেন, এলডিসি উত্তরণ-পরবর্তী অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বাংলাদেশের পর্যাপ্ত প্রস্তুতি ছিল না। বিষয়টিকে অর্থনৈতিক বাস্তবতার চেয়ে রাজনৈতিকভাবে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

তবে বাড়তি সময় পাওয়া গেলে তা যথাযথভাবে কাজে লাগাতে সরকার ইতোমধ্যে সময়বদ্ধ কর্মপরিকল্পনা তৈরি করেছে। পরিকল্পনাটি ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গেও ভাগ করা হয়েছে।

১০ দেশের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তির লক্ষ্য

বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের পণ্য ও সেবার প্রবেশাধিকার ধরে রাখতে ২০২৬ ও ২০২৭ সালের মধ্যে আট থেকে দশটি দেশের সঙ্গে সমন্বিত অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (সেপা) অথবা মুক্তবাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) সম্পন্ন করার লক্ষ্য রয়েছে বলে জানান বাণিজ্যমন্ত্রী।

তিনি বলেন, ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে মুক্তবাণিজ্য চুক্তির আলোচনার জন্য ইতোমধ্যে প্রধান আলোচক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। প্রথম দফার কারিগরি আলোচনা শুরুর প্রস্তুতিও চলছে। তবে আলোচনার নির্দিষ্ট দিনক্ষণ এখনো চূড়ান্ত হয়নি।

ইইউর বাজারে জিএসপি প্লাস সুবিধা পাওয়ার প্রস্তুতিও অব্যাহত থাকবে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘তবে আশা করি জিএসপি প্লাসের অপশনটা আমাদের নিতে হবে না, তার আগেই আমরা এফটিএটা কমপ্লিট করব।’

পাশাপাশি আঞ্চলিক বিস্তৃত অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব (আরসেপ) চুক্তিতে বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্তির বিষয়ে নীতিগত অনুমোদন পাওয়া গেছে বলেও জানান তিনি।

ব্যবসা শুরুর জটিলতা কমাতে বড় সংস্কারের উদ্যোগ

দেশে বিনিয়োগের পরিবেশ উন্নয়নে প্রশাসনিক জটিলতা দূর করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।

তিনি বলেন, বর্তমানে ট্রেড লাইসেন্স, ব্যাংক হিসাব, প্রাথমিক ছাড়পত্র ও আমদানি নিবন্ধন সনদ সংগ্রহ করে যন্ত্রপাতি আমদানির ঋণপত্র খোলা পর্যন্ত গড়ে ৩৫৫ দিন সময় লেগে যায়। এত দীর্ঘ প্রক্রিয়ায় উদ্যোক্তাদের আগ্রহ ও উদ্যম ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়ে।

এ সমস্যা সমাধানে একক অনলাইন পোর্টালের মাধ্যমে ট্রেড লাইসেন্স দেওয়ার পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। এর ফলে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা ও ফি পরিশোধ করে দেশ কিংবা বিদেশের যেকোনো স্থান থেকে লাইসেন্স সংগ্রহ করা যাবে।

এ ছাড়া যৌথ মূলধন কোম্পানি ও ফার্মসমূহের পরিদপ্তরের (আরজেএসসি) সব সেবা অনলাইনে আনা, বিভিন্ন লাইসেন্সের মেয়াদ তিন থেকে পাঁচ বছর করা এবং পৃথক পরিদর্শনের পরিবর্তে সমন্বিত পরিদর্শনব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

মন্ত্রীর প্রত্যাশা, এসব সংস্কারের মাধ্যমে ২০২৭ সালের মধ্যে উদ্যোক্তাদের লাইসেন্স ও অনুমোদনসংক্রান্ত দীর্ঘসূত্রতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনা সম্ভব হবে।

বিনিয়োগের বড় বাধা জ্বালানিসংকট

দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা জরুরি উল্লেখ করে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, নতুন ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল স্থাপন, গ্যাসকূপ খনন এবং সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়াতে সরকার কাজ করছে।

তিনি আরও বলেন, এলএনজি ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের পর্যাপ্ত মজুতব্যবস্থা না থাকায় আন্তর্জাতিক সরবরাহব্যবস্থায় অনিশ্চয়তা তৈরি হলে বাংলাদেশকে চাপের মুখে পড়তে হয়। এ জন্য কৌশলগত মজুত ও সংরক্ষণসক্ষমতা বাড়ানো প্রয়োজন।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বিনিয়োগকারীদের আস্থা অর্জন করতে হলে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করার পাশাপাশি ব্যবসায়িক প্রক্রিয়া সহজ করতে হবে। একই সঙ্গে বিরোধ নিষ্পত্তিতে স্বচ্ছ আইনি ব্যবস্থা এবং দেশের মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বৃদ্ধির দিকেও নজর দিতে হবে।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরামের সভাপতি দৌলত আক্তার মালা। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ ফরেন ট্রেড ইনস্টিটিউটের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ড. মোস্তফা আবিদ খান। সেমিনার সঞ্চালনা করেন ইআরএফের কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য এসএসএম মঈনুল হক।

ট্যাগ
এলডিসি উত্তরণ তিন বছর পেছানোর সিদ্ধান্ত চলতি মাসেই আসতে পারে: বাণিজ্যমন্ত্রী
মন্তব্য করুন
Front line Bangladesh
অনলাইন সংস্করণ • 19 Oct, 2026 • 06:23 PM
বিজ্ঞাপন (Compact)