ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের অধিকার থেকে সরে আসবে না ইরান। একই সঙ্গে সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত অন্য কোনো দেশের কাছে হস্তান্তরের সম্ভাবনাও নাকচ করেছে তেহরান। বৃহস্পতিবার (৯ অক্টোবর) এ অবস্থানের কথা জানিয়েছেন ইরানের আণবিক শক্তি সংস্থার প্রধান মোহাম্মদ এসলামি। খবর আনাদোলু এজেন্সির।
রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবিকে দেওয়া বক্তব্যে এসলামি বলেন, ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ ইরানের পারমাণবিক কার্যক্রমের অবিচ্ছেদ্য অংশ। তেহরান এ কার্যক্রম বন্ধ করতে পারে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘কোনো অবস্থাতেই নয়।’ তিনি প্রশ্ন তোলেন, প্রক্রিয়ার প্রাথমিক ধাপ ছাড়া কীভাবে একটি দেশের পারমাণবিক শিল্প থাকার দাবি করা যায়।
এসলামির ভাষ্য, পারমাণবিক শিল্প বৈজ্ঞানিক ও প্রযুক্তিগত উন্নয়নের অন্যতম চালিকাশক্তি। তাই প্রযুক্তিগত অগ্রগতির অধিকার থেকে ইরান পিছিয়ে আসবে না।
সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত অন্য কোনো দেশের কাছে হস্তান্তরের সম্ভাবনাও প্রত্যাখ্যান করেন তিনি। এ বিষয়ে তার বক্তব্য, ‘না, এমন কিছু হওয়ার প্রশ্নই নেই।’
আইএইএর পরিদর্শন নিয়ে বিরোধ
আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) সঙ্গে সহযোগিতার বিষয়ে এসলামি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে নিরাপত্তাঝুঁকি থাকায় সেখানে পরিদর্শন সম্ভব হচ্ছে না।
তিনি বলেন, সংস্থাটি জানে যে স্থাপনাগুলোতে বোমা হামলা হয়েছে এবং হুমকি এখনো সক্রিয় রয়েছে। নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত এসব স্থাপনায় আইএইএর পরিদর্শকদের প্রবেশ স্বাভাবিকভাবে সম্ভব নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
এসলামি আরও জানান, ইরানের কিছু পারমাণবিক স্থাপনা হামলার লক্ষ্যবস্তু না হওয়ায় সেখানে আইএইএর পরিদর্শকেরা গেছেন এবং তেহরানের সঙ্গে সমঝোতার ভিত্তিতে নিয়মিত পরিদর্শন করেছেন। এসব পরিদর্শনের কথা স্বীকার না করার জন্য তিনি সংস্থাটির সমালোচনা করেন। তার অভিযোগ, ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনাগুলোর তথ্য সংগ্রহের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চাপের মুখে কাজ করছে আইএইএ।
তবে আইএইএর বক্তব্য অনুযায়ী, প্রবেশাধিকারে বিধিনিষেধ থাকায় ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুতের বর্তমান অবস্থা ও অবস্থান যাচাই করা সম্ভব হচ্ছে না।
হামলার পর থেকে সহযোগিতা নিয়ে টানাপোড়েন
২০২৫ সালের জুনে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর দেশটির পার্লামেন্ট আইএইএর সঙ্গে সহযোগিতা স্থগিতের বিষয়ে একটি আইন অনুমোদন করে। ওই আইনে নিরাপত্তার নিশ্চয়তা এবং ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের অনুমোদন সাপেক্ষে পরিদর্শনের সুযোগ রাখা হয়।
২০২৫ সালের জুনের সংঘাতে ইরানের নাতাঞ্জ, ফোরদো ও ইসফাহানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে হামলা চালানো হয়। পরে ২০২৬ সালের মার্চে নাতাঞ্জ স্থাপনা আবারও যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার লক্ষ্যবস্তু হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এরপর গত জুনে আইএইএর গভর্নরস বোর্ড একটি প্রস্তাব গ্রহণ করে। এতে ইরানের কাছে সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত সম্পর্কে তথ্য চাওয়া হয় এবং পারমাণবিক উপাদান যাচাইয়ের জন্য পরিদর্শকদের প্রবেশাধিকার দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।
ইরানের দাবি, কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ
তেহরানের দাবি, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ। পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধ চুক্তির (এনপিটি) আওতায় ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণকে নিজেদের বৈধ অধিকার বলে মনে করে ইরান।
অন্যদিকে, আইএইএর পরিদর্শন ও যাচাই কার্যক্রমে বিধিনিষেধ থাকায় ইরানের পারমাণবিক উপাদানের মজুত সম্পর্কে পূর্ণাঙ্গ তথ্য পাওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। ফলে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ, মজুতের হিসাব এবং ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনাগুলোতে প্রবেশাধিকার নিয়ে তেহরান ও আন্তর্জাতিক পরমাণু নজরদারি সংস্থার বিরোধ অব্যাহত রয়েছে।
সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি