ইরান-সমর্থিত ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে বড় ধরনের সামরিক অভিযান চালানোর পরিকল্পনা করছে সৌদি আরব। মধ্যপ্রাচ্যের একাধিক সূত্রের বরাতে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, কয়েক সপ্তাহের মধ্যে নতুন এই অভিযান শুরু হতে পারে।
সূত্রগুলো বলছে, নতুন অভিযানের প্রধান লক্ষ্য হবে লোহিত সাগরের উপকূলীয় এলাকা থেকে হুথি যোদ্ধাদের সরিয়ে দেওয়া। একই সময়ে ইয়েমেনের বিভিন্ন ফ্রন্টে সমন্বিত হামলা চালানোর পরিকল্পনাও বিবেচনায় রয়েছে।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, ইয়েমেনের স্থলবাহিনী অভিযান পরিচালনা করবে এবং তাদের সহায়তা করবে সৌদি আরব। পাশাপাশি সৌদি বাহিনী বিমান হামলা চালাবে।
আঞ্চলিক সূত্রগুলোর দাবি, যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যে সৌদি আরবকে গোয়েন্দা তথ্য দিয়ে সহায়তা করছে। কয়েকটি আরব ও ইউরোপীয় দেশও সৌদিকে প্রতিরক্ষামূলক সামরিক সহায়তা দিচ্ছে। তবে হুথিদের বিরুদ্ধে সরাসরি সামরিক অভিযানে সৌদির কোনো মিত্র অংশ নেবে না বলে সূত্রগুলো জানিয়েছে।
দীর্ঘ সংঘাতের পর নতুন করে উত্তেজনা
২০১৪ সালে ইয়েমেনে সরকারবিরোধী আন্দোলনের সময় হুথিরা রাজধানী সানাসহ বিভিন্ন এলাকা দখল করে নেয়। এর পরই দেশটিতে গৃহযুদ্ধ শুরু হয়। ২০১৫ সালে ইয়েমেনের সরকারকে সমর্থন দিতে যুদ্ধে সরাসরি যুক্ত হয় সৌদি আরব। হুথিদের অবস্থানে হাজার হাজার বিমান হামলা চালালেও তাদের পুরোপুরি পরাজিত করতে পারেনি সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট।
পরে জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় ২০২২ সালে হুথি ও সৌদি আরবের মধ্যে যুদ্ধবিরতি হয়, যা চলতি বছরের মাঝামাঝি পর্যন্ত কার্যকর ছিল।
সাম্প্রতিক সময়ে দুই পক্ষের মধ্যে আবারও উত্তেজনা বাড়তে শুরু করেছে। প্রায় দুই মাস আগে সানা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সৌদি হামলার পর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয় বলে সূত্রগুলো জানিয়েছে।
এরপর হুথিরা সৌদির ওপর হামলা চালায় এবং সৌদি আরবের আরোপ করা অবরোধ প্রত্যাহারের দাবি জানায়। অবরোধ প্রত্যাহার না করলে লোহিত সাগর ও বাব এল-মান্দেব প্রণালি দিয়ে সৌদি জাহাজ চলাচল বন্ধ করে দেওয়ার হুমকিও দেয় তারা।
এরই মধ্যে ইয়েমেনের গুরুত্বপূর্ণ বন্দরনগরী মোখা হুথিদের নিয়ন্ত্রণে যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে। সূত্রগুলোর দাবি, সম্প্রতি হুথিরা লোহিত সাগরের যেসব এলাকায় দ্রুত অভিযান চালিয়ে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছে, সেগুলোই সৌদি নেতৃত্বাধীন নতুন অভিযানের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হতে পারে।
সূত্র: রয়টার্স