সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে টানা দ্বিতীয় দিনের হামলায় অন্তত একজন পাকিস্তানি নাগরিক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ১১ জন বলে সৌদি কর্তৃপক্ষের বরাতে জানানো হয়েছে। এর আগে শনিবারের হামলায় দুই বাংলাদেশিসহ অন্তত ১৩ জন নিহত হওয়ার খবর দেওয়া হয়েছিল।
রোববার (১১ অক্টোবর) দ্বিতীয় দফার হামলায় একটি ক্ষেপণাস্ত্র বিমানবন্দরের যাত্রী টার্মিনালে আঘাত হানে। এতে সেখানে অগ্নিকাণ্ডের সৃষ্টি হয়। সৌদি আরবের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘এক্স’-এ দেওয়া বিবৃতিতে পাকিস্তানি এক বাসিন্দার নিহত হওয়ার তথ্য জানায়।
এর আগে শনিবার একই বিমানবন্দরে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় ১৩ জন নিহত এবং ৩০৮ জন আহত হন। নিহতদের মধ্যে দুই বাংলাদেশি, চার সৌদি নাগরিক এবং যুক্তরাষ্ট্র, জর্ডান, ফিলিস্তিন, মিসর ও ভারতের নাগরিক ছিলেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
হুথি বিদ্রোহীদের সামরিক মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইয়াহিয়া সারি হামলার দায় স্বীকার করেছেন। তিনি সতর্ক করে বলেছেন, মক্কা ও মদিনা বাদে সৌদি আরবের অন্যান্য বিমানবন্দর ও আকাশসীমা তাদের পরবর্তী লক্ষ্যবস্তু হতে পারে। পাশাপাশি দাম্মাম বিমানবন্দর ও বিভিন্ন তেল স্থাপনায় হামলার দাবিও করেছে গোষ্ঠীটি।
ইয়েমেনের সানা বিমানবন্দরে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের সাম্প্রতিক বিমান হামলার প্রতিশোধ হিসেবে এসব হামলা চালানো হয়েছে বলে হুথিদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
অন্যদিকে, সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের মুখপাত্র মেজর জেনারেল তুর্কি আল-মালিকি হামলাকে যুদ্ধাপরাধ হিসেবে বর্ণনা করে কঠোর জবাব দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও বলেছেন, হুথিদের বিরুদ্ধে হামলা চালানো হবে কি না, সে বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র দ্রুত সিদ্ধান্ত নেবে।
এদিকে, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি জানিয়েছেন, সৌদি আরব ও ইয়েমেনের হুথি-নিয়ন্ত্রিত প্রশাসনের মধ্যে সংলাপ সহজতর করতে তেহরান সহযোগিতা দিতে প্রস্তুত।
উল্লেখ্য, ২০২২ সালে হুথি ও সৌদি নেতৃত্বাধীন বাহিনীর মধ্যে হওয়া অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি ভেঙে যাওয়ার পর থেকে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ও সংঘাত অব্যাহত রয়েছে। হুথিরা ইয়েমেনের উল্লেখযোগ্য অংশ নিয়ন্ত্রণ করছে। সৌদি আরবের আশঙ্কা, দেশটিতে ইরানের প্রভাব আরও বিস্তৃত হলে তাদের দক্ষিণ সীমান্তের নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়তে পারে।