আজকের তারিখঃ 27 অক্টোবর, 2026 সময়ঃ 3:40
লগইন
9+
অনলাইন সংস্করণ 4 মিনিটে পড়ুন ARTICLE

ফ্রান্সজুড়ে ৭০ হাজার পুলিশ মোতায়েন, বিক্ষোভ ঘিরে কঠোর নিরাপত্তা

Front line Bangladesh 24 Oct, 2026 • 03:30 PM
ছবির ক্যাপশন: ফ্রান্সজুড়ে ৭০ হাজার পুলিশ মোতায়েন, বিক্ষোভ ঘিরে কঠোর নিরাপত্তা

ফ্রান্সে বিক্ষোভ ও সহিংসতা মোকাবিলায় দেশজুড়ে ৭০ হাজার পুলিশ সদস্য মোতায়েন করেছে প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর নেতৃত্বাধীন সরকার। শনিবার (২৪ অক্টোবর) বিক্ষোভ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলিট পুলিশ ইউনিট, অশ্বারোহী পুলিশ, হেলিকপ্টার, ড্রোন, সাঁজোয়া যান ও জলকামান প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিক্ষোভের বিস্তার ও সহিংসতার আশঙ্কায় ফ্রান্সের বিভিন্ন শহরে জনসমাগম এবং গণপরিবহন চলাচলের ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। এর আগে শুক্রবার প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর প্রতিরক্ষা পরিষদের বৈঠক হওয়ার কথা ছিল। বৈঠকে শীর্ষ মন্ত্রী ও কর্মকর্তারা অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। বৈঠকের পর আরও কিছু সিদ্ধান্ত ঘোষণার ইঙ্গিত দিয়েছে প্রেসিডেন্টের দপ্তর।

ম্যাক্রোঁ সাম্প্রতিক অস্থিরতার জন্য ‘রাষ্ট্রবিরোধী’ উগ্র বামপন্থী গোষ্ঠীগুলোকে দায়ী করেছেন।

সহিংসতা ঠেকাতে বাড়তি পুলিশ

ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরেন্ট নুনেজ শুক্রবার সাংবাদিকদের জানান, শনিবার দেশজুড়ে প্রায় ৭০ হাজার পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হবে, যা আগের সপ্তাহের শনিবারের তুলনায় প্রায় ১০ হাজার বেশি।

উগ্র বামপন্থী গোষ্ঠীগুলো অনলাইনে সরকারি ভবন লক্ষ্য করে হামলার আহ্বান জানাচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। নুনেজ বলেন, দাঙ্গা, লুটপাট ও সহিংসতায় জড়িত ব্যক্তিদের প্রতি কোনো নমনীয়তা দেখানো হবে না।

তিনি আরও বলেন, কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতি মোকাবিলায় সতর্ক ও কঠোর অবস্থানে থাকবে। গত সপ্তাহে কিছু সংবেদনশীল এলাকায় জারি করা কারফিউও বহাল থাকবে।

বৃহস্পতিবার ম্যাক্রোঁ ঘোষণা দেন, শনিবার কেবল শ্রমিক ইউনিয়নগুলোর বিক্ষোভের অনুমতি দেওয়া হবে। এ সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছে বিভিন্ন ছাত্র সংগঠন। তাদের অভিযোগ, সরকার বিক্ষোভের স্বাধীনতা সীমিত করছে।

প্যারিসসহ বিভিন্ন শহরে বিধিনিষেধ

রাজধানী প্যারিসে রাতের কারফিউ সোমবার পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। দেশটির তৃতীয় বৃহত্তম শহর লিওঁর কেন্দ্রীয় এলাকায় জনসমাগম নিষিদ্ধ করা হয়েছে। শনিবারের জন্য সেখানে কারফিউ ও গণপরিবহন চলাচলেও বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে।

উপকূলীয় শহর মার্সেইতে বিক্ষোভ নিষিদ্ধ করা হলেও শুক্রবার কর্তৃপক্ষ বিশেষ বিবেচনায় শ্রমিক ইউনিয়নের একটি মিছিলের অনুমতি দেওয়ার কথা জানায়।

গত শনিবার ফ্রান্সজুড়ে পাঁচ লাখেরও বেশি মানুষ বিক্ষোভে অংশ নিয়েছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে কর্মসূচির একপর্যায়ে বিভিন্ন স্থানে সহিংসতা ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। বিচার মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ওই ঘটনার পর থেকে এ পর্যন্ত ২ হাজার ৭০০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

বিক্ষোভের অনুমতি নিয়ে বিতর্ক

বিভিন্ন বিধিনিষেধের মধ্যেও ফ্রান্সের জাতীয় ছাত্র ইউনিয়ন ইউএনইএফ শনিবার সমাবেশের ডাক দিয়েছে। ২০১৮ সালে আত্মপ্রকাশ করা সরকারবিরোধী ‘ইয়েলো ভেস্ট’ আন্দোলনের পক্ষ থেকেও প্যারিসের কেন্দ্রস্থলে পদযাত্রার পরিকল্পনা ঘোষণা করা হয়েছে।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পুলিশ প্যারিসে শ্রমিক ইউনিয়নকে নির্দিষ্ট পথে বিক্ষোভের অনুমতি দিলেও ইউএনইএফ ও ইয়েলো ভেস্ট আন্দোলনের কর্মসূচির অনুমতি প্রত্যাখ্যান করেছে। তবে ইউএনইএফ জানিয়েছে, তারা কর্মসূচি চালিয়ে যাবে।

অন্যদিকে, অরলিয়ঁ শহরে বিরোধীদলীয় নেত্রী মেরিন ল্য পেনের কট্টর ডানপন্থী দল ন্যাশনাল র‍্যালির দলীয় কংগ্রেসের প্রতিবাদে ২০ হাজার থেকে ৩০ হাজার মানুষ বিক্ষোভ করতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, শহরের কেন্দ্রস্থলে ওই জমায়েত হতে দেওয়া হবে না।

সরকারের সমালোচনায় মানবাধিকার সংস্থাগুলো

ফরাসি সরকারের বিধিনিষেধের সমালোচনা করেছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল। সংস্থাটি এসব পদক্ষেপকে কর্তৃত্ববাদী আচরণের দিকে ঝুঁকে পড়ার লক্ষণ হিসেবে উল্লেখ করেছে এবং শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভের অধিকার নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছে।

ভিড় নিয়ন্ত্রণে ব্যবহৃত অস্ত্রের আঘাতে শিক্ষার্থী ও অপ্রাপ্তবয়স্করা গুরুতর আহত হওয়ার খবরেও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ।

ফরাসি শ্রমিক সংগঠনের নেতা মারিলিস লিওঁর মতে, জনগণের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের বিষয়টি বিবেচনায় না নিয়ে বিধিনিষেধ আরোপ করলে তা উল্টো ফল বয়ে আনতে পারে।

ইউএনইএফের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, ম্যাক্রোঁ সরকার দেশে বিক্ষোভের স্বাধীনতা খর্ব করছে।

এদিকে, বিক্ষোভের আশঙ্কায় প্রধান শহরগুলোতে দোকানপাট ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার আহ্বান জানানো হয়েছে। শনিবার ল্যুভর জাদুঘর ও লুই ভুইতোঁ ফাউন্ডেশন বন্ধ থাকবে। প্যারিসে অনুষ্ঠিত আর্ট বাসেল মেলাও নির্ধারিত সময়ের দুই দিন আগে শুক্রবার শেষ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

সূত্র: আলজাজিরা, রয়টার্স।

ট্যাগ
ফ্রান্সজুড়ে ৭০ হাজার পুলিশ মোতায়েন বিক্ষোভ ঘিরে কঠোর নিরাপত্তা
মন্তব্য করুন
Front line Bangladesh
অনলাইন সংস্করণ • 24 Oct, 2026 • 03:30 PM
বিজ্ঞাপন (Compact)