যুক্তরাজ্যের আরএএফ ফেয়ারফোর্ড বিমানঘাঁটিতে সন্দেহজনক ঘটনার কয়েক সপ্তাহ আগে ইসরায়েল ইরান-সমর্থিত সম্ভাব্য হামলার বিষয়ে ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষকে গোয়েন্দা তথ্য দিয়েছিল বলে দাবি করেছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নেতানিয়াহু বলেন, গত ৮ সেপ্টেম্বর যুক্তরাজ্যের তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এড মিলিব্যান্ড ইসরায়েলের ওপর নিষেধাজ্ঞা ঘোষণার কিছুদিন আগে এই সতর্কতা দেওয়া হয়েছিল।
ফেয়ারফোর্ডের সাম্প্রতিক ঘটনাটি নিয়ে প্রশ্ন করা হলে নেতানিয়াহু বলেন, ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষকে তারা জানিয়েছিলেন যে একটি হামলা হতে যাচ্ছে এবং সেটি ইরানের পৃষ্ঠপোষকতায় হতে পারে। তার দাবি, সতর্কবার্তা দেওয়ার প্রায় পরদিনই যুক্তরাজ্য ইসরায়েলের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে।
তবে নেতানিয়াহু তার দেওয়া গোয়েন্দা সতর্কতা ফেয়ারফোর্ডের গত রোববারের নির্দিষ্ট ঘটনার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত ছিল কি না, তা স্পষ্ট করেননি।
ফেয়ারফোর্ড বিমানঘাঁটির কাছে সম্ভাব্য সন্ত্রাসী হামলার পরিকল্পনার সন্দেহে পাঁচ ব্রিটিশ নাগরিককে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। তবে গ্রেপ্তারের ৩৬ ঘণ্টারও কম সময়ের মধ্যে তাদের জামিনে মুক্তি দেওয়া হয়।
ব্রিটিশ জাতীয় সন্ত্রাসবিরোধী পুলিশের সহকারী কমিশনার লরেন্স টেলর বলেন, তদন্তকারীরা ঘটনার সম্ভাব্য সব দিক খতিয়ে দেখছেন। কোনো বিদেশি রাষ্ট্রের হয়ে জেনে বা না জেনে কাজ করা প্রক্সি বা ব্যক্তিদের মাধ্যমে ঘটনাটি ঘটেছে কি না, সেটিও তদন্তের আওতায় রয়েছে।
ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যামও বলেন, ফেয়ারফোর্ডের ঘটনায় ইরান কোনো না কোনোভাবে জড়িত ছিল। তবে তদন্তের বিস্তারিত তথ্য তিনি প্রকাশ করেননি।
এদিকে নেতানিয়াহুর বক্তব্যের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ব্রিটিশ পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে ফেয়ারফোর্ডের ঘটনার সঙ্গে ইরানকে যুক্ত করেনি। ইরানও ওই ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
ঘটনার সময় বিমানঘাঁটি থেকে প্রায় ৪০০ মিটার দূরে তিনটি সন্দেহজনক ভ্যান পার্ক করা ছিল। এর আগে ইরান ফেয়ারফোর্ডকে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবহৃত একটি বৈধ লক্ষ্য হিসেবে চিহ্নিত করেছিল। মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক অভিযানে ঘাঁটিটি ব্যবহৃত হয়ে থাকে।
সাবেক ব্রিটিশ সন্ত্রাসবিরোধী পুলিশ কর্মকর্তারা ধারণা করেছেন, ঘটনাটি শত্রুতামূলক গোয়েন্দা নজরদারি কিংবা সম্ভাব্য বড় হামলার আগে নিরাপত্তাব্যবস্থা যাচাইয়ের ‘ড্রাই রান’ হতে পারে। তবে এটি এখনো তদন্তাধীন একটি সম্ভাবনা।
সন্দেহভাজনদের দ্রুত জামিনে মুক্তি দেওয়ার সমালোচনা করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও। তিনি বলেন, তাদের ছেড়ে দেওয়ার ঘটনায় তিনি বিস্মিত এবং তার প্রশাসন হলে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হতো না।
সূত্র: দ্য টেলিগ্রাফ