ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে দিল্লির যন্তরমন্তরে বিক্ষোভ কর্মসূচি ঘিরে কঠোর অবস্থান নিয়েছে পুলিশ। বিক্ষোভকারীদের সমাবেশ ঠেকাতে এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার, ব্যারিকেড স্থাপন এবং ধরপাকড় চালানোর অভিযোগ উঠেছে। শুক্রবার রাত থেকে শনিবার দুপুর পর্যন্ত প্রায় এক হাজার বিক্ষোভকারীকে আটক করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।
বিবিসির সাংবাদিক গীতা পান্ডে যন্তরমন্তর থেকে জানিয়েছেন, সেখানে পুলিশ সদস্যদের সারিবদ্ধভাবে অবস্থান করতে দেখা গেছে। আকাশে ড্রোন উড়ছিল এবং বিভিন্ন স্থানে ভারী লোহার ব্যারিকেড বসানো হয়েছিল। বিক্ষোভস্থলে কাউকে প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছিল না বলেও জানান তিনি।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিক্ষোভের সংবাদ সংগ্রহ করতে যাওয়া কয়েকজন সাংবাদিককেও আটক করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে নিউজলন্ড্রি ও স্ক্রলের সাংবাদিক রয়েছেন বলে জানিয়েছেন গীতা পান্ডে।
এদিকে সাধারণ বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধেও ধরপাকড় অব্যাহত থাকার কথা বলা হয়েছে। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে আন্দোলনটির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দ্বীপসহ কয়েকজন শীর্ষ নেতা রয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। জনপ্রিয় ইউটিউবার ধ্রুব রাঠীকেও তাঁর বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। তিনি জার্মানি থেকে আন্দোলনে যোগ দিতে ভারতে এসেছিলেন বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে ভোটার তালিকা থেকে বিপুলসংখ্যক ভোটারের নাম বাদ দেওয়ার প্রতিবাদে যন্তরমন্তরে এই বিক্ষোভের ডাক দেওয়া হয়েছিল। আন্দোলনকারীরা এ ঘটনায় নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ দাবি করছেন।
এর আগে মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নফাঁসের অভিযোগকে কেন্দ্র করে যন্তরমন্তরে দীর্ঘ আন্দোলন হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ওই আন্দোলনের পর তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবি ওঠে বলে দাবি করা হয়েছে।
তবে বিক্ষোভকারীদের আটক, সাংবাদিকদের গ্রেপ্তার এবং পরিবহন চলাচল বন্ধের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য প্রতিবেদনে স্পষ্ট নয়।
তথ্যসূত্র: বিবিসি