ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ এবং মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের প্রভাবে ইউরোপে জেট ফুয়েলের সরবরাহ সংকট আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বাজার বিশ্লেষকেরা। সরবরাহ কমে যাওয়ায় ২০২৬ সালের শেষ তিন মাসে ইউরোপে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৫ লাখ ১০ হাজার ব্যারেল জেট ফুয়েলের ঘাটতি হতে পারে বলে জানিয়েছে এনার্জি অ্যাসপেক্টস।
ঘাটতি সামাল দিতে ইউরোপ দূরবর্তী বিভিন্ন দেশ থেকে জেট ফুয়েল আমদানি বাড়িয়েছে। এর মধ্যে দক্ষিণ কোরিয়া নতুন করে গুরুত্বপূর্ণ সরবরাহকারী হিসেবে উঠে এসেছে। সেপ্টেম্বরে দক্ষিণ কোরিয়া থেকে ইউরোপে প্রতিদিন প্রায় ১ লাখ ২৯ হাজার ব্যারেল জেট ফুয়েল যাচ্ছে, যা ২০২২ সালের অক্টোবরের পর সর্বোচ্চ।
এর আগে নাইজেরিয়া, যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা থেকেও ইউরোপে জেট ফুয়েলের আমদানি বেড়েছে। রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, মধ্যপ্রাচ্যের সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় ইউরোপের জেট ফুয়েল আমদানি প্রায় অর্ধেকে নেমেছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে প্রতিদিন প্রায় ১৮ হাজার ব্যারেল এবং এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলে প্রায় ৪ লাখ ১৯ হাজার ব্যারেল অতিরিক্ত সরবরাহ থাকতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।
সাত বছরের সর্বনিম্ন মজুত
ইউরোপে জেট ফুয়েলের মজুতও উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। আমস্টারডাম-রটারডাম-অ্যান্টওয়ার্প (এআরএ) অঞ্চলের তেল সংরক্ষণ ও পরিশোধন কেন্দ্রগুলোতে ১০ সেপ্টেম্বর শেষ হওয়া সপ্তাহে মজুত সাত বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমেছে।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, ইউরোপে সরবরাহ ঘাটতি অব্যাহত থাকলে আমদানি আরও বাড়তে পারে। এশিয়া থেকে ইউরোপে জেট ফুয়েল পাঠানোও ব্যবসায়ীদের জন্য তুলনামূলক লাভজনক হয়ে উঠেছে, কারণ দুই অঞ্চলের বাজারদরের ব্যবধান বেড়েছে।
দক্ষিণ কোরিয়ায় উৎপাদনও বেড়েছে
এদিকে দক্ষিণ কোরিয়ায় জেট ফুয়েলের উৎপাদন জুলাইয়ে প্রায় ১ কোটি ৩৮৯ লাখ ব্যারেলে পৌঁছেছে, যা সাত বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। একই মাসে দেশটির তেল শোধনাগারগুলোতে অপরিশোধিত তেল পরিশোধনের হার দৈনিক গড়ে প্রায় ২৭ লাখ ব্যারেল, যা জুনের তুলনায় ১৬ শতাংশ বেশি।
বিশ্লেষকদের মতে, দক্ষিণ কোরিয়ার বাড়তি উৎপাদন ইউরোপের সরবরাহ ঘাটতি মোকাবিলায় কিছুটা সহায়তা করতে পারে। তবে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতির আরও অবনতি হলে ইউরোপের জেট ফুয়েল সরবরাহের ওপর নতুন করে চাপ তৈরি হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।
সূত্র: রয়টার্স রয়টার্সের প্রতিবেদন