আজকের তারিখঃ 27 অক্টোবর, 2026 সময়ঃ 3:38
লগইন
9+
অনলাইন সংস্করণ 4 মিনিটে পড়ুন ARTICLE

অপরচুনিটির রেকর্ড ভাঙল পারসিভারেন্স, মঙ্গলে নতুন ইতিহাস

Front line Bangladesh 13 Oct, 2026 • 01:40 PM
ছবির ক্যাপশন: অপরচুনিটির রেকর্ড ভাঙল পারসিভারেন্স, মঙ্গলে নতুন ইতিহাস

পৃথিবীর বাইরে সৌরজগতের অন্য কোনো গ্রহে সবচেয়ে বেশি দূরত্ব অতিক্রমকারী যান হিসেবে নতুন রেকর্ড গড়েছে যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার রোবটযান পারসিভারেন্স। ২০২১ সালে মঙ্গলে অবতরণের পর থেকে যানটি এখন পর্যন্ত ২৮ দশমিক ১ মাইল বা ৪৫ দশমিক ২ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়েছে। মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) এ তথ্য জানিয়েছে নাসা।

ছয় চাকার গাড়ির আকারের এই রোবটযান মঙ্গলে অতীতে অণুজীবের অস্তিত্বের উপযোগী পরিবেশ ছিল কি না, তা অনুসন্ধান করছে। পাশাপাশি গ্রহটির প্রাচীন ভূতাত্ত্বিক ইতিহাস সম্পর্কেও তথ্য সংগ্রহ করছে এটি।

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নাসার জেট প্রপালশন ল্যাবরেটরির কর্মকর্তা স্টিভেন লি বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানান, পারসিভারেন্সের প্রকৌশলগত সরঞ্জাম ও বৈজ্ঞানিক যন্ত্রপাতি এখনো ভালো অবস্থায় রয়েছে। এর বিকল্প ব্যবস্থাগুলোও সচল আছে। সাম্প্রতিক মূল্যায়নে দেখা গেছে, রোবটযানটি ২০৩০-এর দশক পর্যন্ত, এমনকি তার পরও কাজ চালিয়ে যেতে পারে।

পারসিভারেন্সের এই অর্জনের মধ্য দিয়ে ২০০৪ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত মঙ্গলের পৃষ্ঠে ২৮ দশমিক ০৬ মাইল বা প্রায় ৪৫ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করা নাসার অপর রোবটযান অপরচুনিটির রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে।

জেজেরো গহ্বরে চলছে অনুসন্ধান

পারসিভারেন্সের অনুসন্ধানের মূল কেন্দ্র মঙ্গলের উত্তর গোলার্ধে অবস্থিত জেজেরো গহ্বর। বিজ্ঞানীদের ধারণা, কয়েকশ কোটি বছর আগে অঞ্চলটি পানিতে প্লাবিত ছিল এবং সেখানে একটি হ্রদ ছিল।

গহ্বরটির পশ্চিম প্রান্তের কাছের ‘ল্যাক দ্য শার্ম’ অঞ্চল পেরিয়ে ‘ইদুবি’ নামের একটি এলাকার দিকে যাওয়ার পথে নতুন দূরত্বের রেকর্ড গড়ে রোবটযানটি।

স্টিভেন লি জানান, পারসিভারেন্সের চলাচলব্যবস্থা পরীক্ষা করে দেখা হচ্ছে, যাতে এটি ১০০ কিলোমিটার বা তারও বেশি পথ পাড়ি দিতে পারে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়। পরীক্ষার অংশ হিসেবে এর যন্ত্রপাতিকে ১৫০ থেকে ৩০০ কিলোমিটার পথ চলার সমতুল্য সক্ষমতার মধ্য দিয়েও যাচাই করা হবে।

রোবটযানটির সাফল্যের অন্যতম কারণ স্বয়ংক্রিয় চলাচল প্রযুক্তি ‘অটোন্যাভ’। লির মতে, পারসিভারেন্সের প্রায় ৯০ শতাংশ যাত্রা মানুষের সরাসরি হস্তক্ষেপ ছাড়াই সম্পন্ন হয়।

এই প্রযুক্তির মাধ্যমে যানটি সামনের ভূখণ্ডের ত্রিমাত্রিক ছবি ধারণ করে এবং সফটওয়্যারের সাহায্যে মানচিত্র তৈরি করে। এরপর নিরাপদ পথ বেছে নিয়ে গন্তব্যের দিকে এগিয়ে যায়। দ্রুতগতির বিশেষ কম্পিউটার চলার সময় ছবি বিশ্লেষণ ও পথ নির্ধারণে সহায়তা করে।

আগের প্রজন্মের মঙ্গলযানগুলোকে চলাচলের প্রতিটি ধাপের আগে হিসাব-নিকাশের জন্য থামতে হতো। পারসিভারেন্সের উন্নত প্রযুক্তি সেই সীমাবদ্ধতা অনেকটাই কাটিয়ে উঠেছে। এ সক্ষমতা তৈরিতে নাসার আগের চারটি মঙ্গলযান—সোজার্নার, স্পিরিট, অপরচুনিটি ও কিউরিওসিটির প্রায় ২৯ বছরের অভিজ্ঞতা কাজে লাগানো হয়েছে।

প্রাচীন প্রাণের সম্ভাব্য চিহ্নের সন্ধান

পারসিভারেন্সের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অর্জন হলো মঙ্গলে প্রাচীন অণুজীবের অস্তিত্বের সম্ভাব্য চিহ্ন বা ‘বায়োসিগনেচার’ শনাক্ত করা। গত বছর এ আবিষ্কারের তথ্য প্রকাশ করা হয়।

মঙ্গলের একটি প্রাচীন নদীখাতে পাওয়া লালচে শিলায় এসব সম্ভাব্য চিহ্নের সন্ধান মেলে। বিজ্ঞানীদের ধারণা, শিলাটি ৩২০ কোটি থেকে ৩৮০ কোটি বছর আগে তৈরি হয়েছিল। সে সময় নদীখাতটি জেজেরো গহ্বরের হ্রদে পানি সরবরাহ করত।

তবে সম্ভাব্য বায়োসিগনেচারের উপস্থিতি এখনো মঙ্গলে অতীত প্রাণের অস্তিত্বের চূড়ান্ত প্রমাণ নয়। এ বিষয়ে আরও গবেষণা প্রয়োজন।

স্টিভেন লির মতে, ল্যাক দ্য শার্ম অঞ্চলের ভূখণ্ড থেকে মঙ্গলের প্রাচীন ভূতাত্ত্বিক প্রক্রিয়া, বিশেষ করে বড় উল্কাপিণ্ডের আঘাতের প্রভাব সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যেতে পারে। গ্রহটির ইতিহাসের শুরুর দিকে এমন একটি আঘাতেই জেজেরো গহ্বরের সৃষ্টি হয়েছিল বলে ধারণা করা হয়।

স্যাটেলাইটচিত্রের তথ্য অনুযায়ী, গহ্বরটির প্রান্তের কিছু এলাকায় একসময় ভূগর্ভস্থ উষ্ণ পানির পরিবেশ ছিল বলে ধারণা করছেন বিজ্ঞানীরা। এ ধরনের পরিবেশ প্রাণের বিকাশের অনুকূল হতে পারে। কিছু জীবাশ্মবিদের ধারণা, পৃথিবীতেও এমন পরিবেশে প্রাণের সূচনা হয়ে থাকতে পারে।

২০২৮ সাল পর্যন্ত বাড়ল অভিযানের মেয়াদ

পারসিভারেন্সের মূল অভিযানে ২০ কিলোমিটার পথ চলার পরিকল্পনা ছিল। তবে মঙ্গলের গহ্বরটির প্রান্তবর্তী অঞ্চল অনুসন্ধানের জন্য সম্প্রতি অভিযানের মেয়াদ বাড়িয়ে ২০২৮ সালের শেষ দিক পর্যন্ত অনুমোদন দিয়েছে নাসা।

স্টিভেন লি জানান, রোবটযানটির প্লুটোনিয়ামভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদনব্যবস্থা প্রত্যাশা অনুযায়ী কাজ করছে। এতে আরও বহু বছর ব্যবহারের মতো শক্তি অবশিষ্ট রয়েছে।

দীর্ঘ দূরত্ব অতিক্রমের নতুন রেকর্ড, স্বয়ংক্রিয় চলাচল প্রযুক্তি এবং প্রাচীন প্রাণের সম্ভাব্য চিহ্ন অনুসন্ধানের মাধ্যমে পারসিভারেন্স মঙ্গল সম্পর্কে মানুষের জ্ঞান বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

সূত্র: রয়টার্স

ট্যাগ
অপরচুনিটির রেকর্ড ভাঙল পারসিভারেন্স মঙ্গলে নতুন ইতিহাস
মন্তব্য করুন
Front line Bangladesh
অনলাইন সংস্করণ • 13 Oct, 2026 • 01:40 PM
বিজ্ঞাপন (Compact)