বিনোদন ডেস্ক
৩৬ বছর বয়সেও উজ্জ্বল ও মসৃণ ত্বকের জন্য প্রায়ই আলোচনায় থাকেন বলিউড অভিনেত্রী তামান্না ভাটিয়া। দামি প্রসাধনীর বদলে ঘরোয়া উপায়ে ত্বকের যত্ন নেওয়ার অভ্যাস রয়েছে তাঁর। আর এই রূপচর্চার অনেক কৌশলই শিখেছেন মায়ের কাছ থেকে।
অভিনয়জীবনের শুরুতে নিয়মিত মেকআপ, চুলের স্টাইলিং ও বিভিন্ন প্রসাধনী ব্যবহারের কারণে ত্বকে নানা সমস্যা দেখা দিত তামান্নার। তখন তাঁর মা প্রাকৃতিক উপাদান দিয়ে ত্বকের যত্ন নেওয়ার পরামর্শ দেন।
২০২২ সালে ‘ভোগ ইন্ডিয়া’র একটি ভিডিওতে নিজের রূপচর্চার অভ্যাস নিয়ে কথা বলেন এই অভিনেত্রী। তাঁর ত্বকের যত্নে চন্দন, কফি, মধু, বেসন, দই ও গোলাপজলের মতো পরিচিত উপকরণের কথা উঠে আসে।
চন্দন, কফি ও মধুর মিশ্রণ
ত্বকের মৃত কোষ দূর করার উদ্দেশ্যে চন্দনের গুঁড়া, কফি ও মধু মিশিয়ে স্ক্রাব ব্যবহারের কথা জানিয়েছেন তামান্না। মিশ্রণটি মুখে লাগিয়ে কিছুক্ষণ পর পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলেন তিনি।
তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, মুখের ত্বক বেশ সংবেদনশীল। কফির দানাদার কণা দিয়ে ঘষলে ত্বকে জ্বালা, লালচে ভাব কিংবা ক্ষুদ্র ক্ষত তৈরি হতে পারে। তাই মুখে এ ধরনের স্ক্রাব ব্যবহারে সতর্ক থাকা জরুরি।
বেসন, দই ও গোলাপজলের ফেসপ্যাক
ত্বকের সতেজতার জন্য বেসন, ঠান্ডা দই ও গোলাপজল মিশিয়ে ফেসপ্যাক তৈরির কথাও জানিয়েছেন অভিনেত্রী। ছোটবেলায় ত্বকে অস্বস্তি অনুভব করলে এই ধরনের ঘরোয়া উপকরণ ব্যবহার করতেন বলে জানান তিনি।
মিশ্রণটি মুখে লাগিয়ে শুকিয়ে গেলে ধুয়ে ফেলার কথা বলা হয়েছে। ব্যস্ততার দিনে শুধু গোলাপজল ব্যবহার করেও ত্বকের যত্ন নেন তামান্না।
তবে দই বা গোলাপজল সবার ত্বকে একইভাবে মানানসই নাও হতে পারে। বিশেষ করে সুগন্ধিযুক্ত গোলাপজল সংবেদনশীল ত্বকে জ্বালাপোড়া সৃষ্টি করতে পারে।
মধু কেন ব্যবহার করেন তামান্না?
তামান্নার রূপচর্চায় মধু অন্যতম উপকরণ। ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখতে মধু সহায়ক হতে পারে। কোনো মিশ্রণ ব্যবহারের পর ত্বক শুষ্ক মনে হলে মধুর পরিমাণ বাড়ানোর কথা তাঁর ব্যক্তিগত রূপচর্চার অভিজ্ঞতায় উঠে এসেছে।
তবে মধু বা অন্য কোনো প্রাকৃতিক উপাদান সবার ত্বকে সমান উপকার দেবে, এমন নিশ্চয়তা নেই।
সুন্দর ত্বকের জন্য কী মনে রাখা জরুরি?
তামান্নার রূপচর্চার অভ্যাস থেকে বোঝা যায়, ত্বকের যত্নে নিয়মিত পরিচর্যার পাশাপাশি নিজের ত্বকের ধরন বোঝাও গুরুত্বপূর্ণ। তবে ঘরোয়া উপাদান ব্যবহার করলেই ত্বক দীর্ঘদিন উজ্জ্বল থাকবে বা বয়সের ছাপ পড়বে না—এমন বৈজ্ঞানিক নিশ্চয়তা নেই।
নতুন কোনো উপাদান ব্যবহারের আগে ত্বকের ছোট অংশে পরীক্ষা করে নেওয়া ভালো। জ্বালাপোড়া বা অ্যালার্জির লক্ষণ দেখা দিলে ব্যবহার বন্ধ করতে হবে। নিয়মিত মৃদু ক্লিনজার, উপযোগী ময়েশ্চারাইজার এবং সানস্ক্রিন ব্যবহার ত্বকের যত্নে বেশি কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।
সূত্র: ইকোনমিক টাইমস