আজকের তারিখঃ 27 অক্টোবর, 2026 সময়ঃ 4:48
লগইন
9+
অনলাইন সংস্করণ 3 মিনিটে পড়ুন ARTICLE

রিমান্ড শেষে কারাগারে গাজী নজরুলের প্রথম স্ত্রী মাকসুদা

Front line Bangladesh 22 Sep, 2026 • 05:41 PM
ছবির ক্যাপশন: রিমান্ড শেষে কারাগারে গাজী নজরুলের প্রথম স্ত্রী মাকসুদা

ডেস্ক রিপোর্ট:

রাজধানীর শেরেবাংলা নগর থানায় দায়ের করা আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলায় গ্রেপ্তার সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের প্রথম স্ত্রী মাকসুদা ইসলামকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত।

মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) এক দিনের রিমান্ড শেষে তাকে ঢাকার আদালতে হাজির করে পুলিশ। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের পরিদর্শক মোহাম্মদ সালাউদ্দিন তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত মাকসুদাকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন। শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট রিপন হোসেন তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

প্রসিকিউশন বিভাগের উপপরিদর্শক রফিকুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত মাকসুদা ইসলামকে হাজতি পরোয়ানামূলে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন। আসামিপক্ষ থেকে কোনো আবেদন করা হয়নি বলেও জানান তিনি।

এর আগে সোমবার মাকসুদা ইসলামের এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। একই মামলায় গাজী নজরুল ইসলামকে চার দিনের রিমান্ডে পাঠানো হয়।

মামলার সূত্রে জানা যায়, গত ২০ সেপ্টেম্বর রাজধানীর শেরেবাংলা নগর থানাধীন ন্যাম ভবনের ৫ নম্বর ভবনের তৃতীয় তলার একটি ফ্ল্যাট থেকে গাজী নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় স্ত্রী মোছা. মরিয়ম খাতুনের (১৯) ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

এ ঘটনায় মরিয়মের বাবা মো. মাসুম বিল্লাহ বাদী হয়ে শেরেবাংলা নগর থানায় আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে মামলা করেন। মামলায় গাজী নজরুল ইসলাম, তার প্রথম স্ত্রী মাকসুদা ইসলাম এবং শ্যালক ওবায়দুর রহমানকে আসামি করা হয়েছে।

এজাহারে বাদী অভিযোগ করেন, গত জুনে গাজী নজরুল ইসলামের সঙ্গে মরিয়ম খাতুনের ইসলামী শরিয়াহ অনুযায়ী বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই বিভিন্ন বিষয় নিয়ে গাজী নজরুল ও তার প্রথম স্ত্রী মাকসুদা মরিয়মকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করতেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। মামলায় আরও দাবি করা হয়, মরিয়ম বিভিন্ন সময়ে মোবাইল ফোনে পরিবারের সদস্যদের এসব বিষয় জানিয়েছিলেন।

এজাহার অনুযায়ী, ২০ সেপ্টেম্বর বিকেলে গাজী নজরুল মরিয়মের বাবাকে দ্রুত বাসায় আসতে বলেন। সেখানে গিয়ে তিনি মরিয়মকে একটি কক্ষে ফ্যানের সঙ্গে ওড়না দিয়ে গলায় ফাঁস দেওয়া অবস্থায় দেখতে পান বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। পরে পুলিশের সহায়তায় দরজা ভেঙে মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ সময় বিছানার ওপর একটি সুইসাইড নোট পাওয়ার কথাও এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

মরিয়মের বাবার অভিযোগ, আসামিদের শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন এবং প্ররোচনার কারণে তার মেয়ে আত্মহত্যা করেছেন। তবে এসব অভিযোগ এখনো মামলার তদন্তাধীন।

মামলার আরেক আসামি ওবায়দুর রহমান এর আগে গাজী নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে করা পৃথক একটি মামলার বাদী ছিলেন। মরিয়মের সঙ্গে গাজী নজরুলের ব্যক্তিগত মুহূর্তের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর গত ২১ জুলাই পল্লবী থানায় ওই মামলা করা হয়। সেখানে মারধর ও শ্বাসরোধ করে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ আনা হয়েছিল। ওই মামলায় হাইকোর্ট থেকে গত ১০ আগস্ট গাজী নজরুল ইসলাম আট সপ্তাহের জামিন পান।

এর আগে মরিয়মের সঙ্গে গাজী নজরুল ইসলামের ব্যক্তিগত মুহূর্তের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়াকে কেন্দ্র করে তাকে নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। পরে ২২ জুলাই বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী সাংগঠনিক তদন্তে নৈতিক স্খলনের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার কথা জানিয়ে গাজী নজরুল ইসলামকে দল থেকে বহিষ্কারের ঘোষণা দেয়।

মরিয়মের মৃত্যুর ঘটনায় করা আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলায় বর্তমানে গাজী নজরুল ইসলাম ও মাকসুদা ইসলাম কারাগারে রয়েছেন; মামলার অপর আসামি ওবায়দুর রহমানকে নিয়েও তদন্ত চলছে।

ট্যাগ
রিমান্ড শেষে কারাগারে গাজী নজরুলের প্রথম স্ত্রী মাকসুদা
মন্তব্য করুন
Front line Bangladesh
অনলাইন সংস্করণ • 22 Sep, 2026 • 05:41 PM
বিজ্ঞাপন (Compact)