যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপের হুমকি দেওয়ার পর পাল্টা পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান। তেহরান বলেছে, অর্থনৈতিক চাপ আরও বাড়ানো হলে তেল রপ্তানি কমিয়ে দেওয়া এবং হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে বাধা দেওয়ার মতো পদক্ষেপ নিতে পারে তারা।

সোমবার বার্তাসংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

ইরানের সাবেক রেভল্যুশনারি গার্ডস প্রধান মোহসেন রেজাই বলেছেন, অর্থনৈতিক যুদ্ধ অব্যাহত থাকলে হরমুজ প্রণালি কিংবা পারস্য উপসাগর দিয়ে এক ফোঁটা তেলও রপ্তানি হতে দেওয়া হবে না।

বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহনপথ হরমুজ প্রণালি। যুদ্ধ শুরুর আগে বিশ্বের মোট জ্বালানি সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই পথ দিয়ে পরিবহন করা হতো। তবে ইরানের সাম্প্রতিক হামলা ও হুমকির কারণে এরই মধ্যে ওই পথে জাহাজ চলাচল উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে।

তেহরান চাইলে উপসাগরীয় দেশগুলোর তেল ও গ্যাস স্থাপনাতেও হামলা চালাতে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে। একই সঙ্গে ইয়েমেনে ইরানের মিত্র হুতিদের মাধ্যমে লোহিত সাগরে জাহাজ চলাচলের ওপরও চাপ বাড়ানো হতে পারে।

এ ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হলে মধ্যপ্রাচ্য থেকে বৈশ্বিক বাজারে তেল সরবরাহ আরও কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এতে বিশ্ববাজারে তেলের দাম দ্রুত বেড়ে যেতে পারে।

তবে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন নিষেধাজ্ঞার হুমকির পরও সোমবার তেলের দাম কমেছে। বিশ্লেষকদের মতে, নতুন নিষেধাজ্ঞাগুলো তাৎক্ষণিকভাবে পুরোপুরি কার্যকর হচ্ছে না। পাশাপাশি বিশ্বের অন্যতম বড় তেল ক্রেতা চীন এখনো ইরানের সঙ্গে বাণিজ্য পুরোপুরি বন্ধ করেনি। সাম্প্রতিক সময়ে তেলের দাম বাড়ার পর বিনিয়োগকারীদের একটি অংশ মুনাফা তুলে নেওয়ায়ও দাম কমেছে।

তবে ইরান যদি নিষেধাজ্ঞার জবাবে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল আরও সীমিত করে অথবা তেল সরবরাহে বড় ধরনের বাধা সৃষ্টি করে, তাহলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ফের দ্রুত বাড়তে পারে।

তেহরানের দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের নতুন পদক্ষেপ চীন ও রাশিয়া মেনে নেয়নি। বিশেষ করে ইরানের সবচেয়ে বড় তেল ক্রেতা চীনের অবস্থান এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ। চীনা ব্যাংকগুলোর ওপর সরাসরি নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হলে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যকার বাণিজ্যিক সম্পর্কেও নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হতে পারে।

এদিকে প্রায় ছয় মাস ধরে চলা যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরানের সংঘাতের এখনো কূটনৈতিক সমাধান হয়নি। সংঘাতে ইরানের সামরিক সক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত হলেও দেশটির কাছে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ব্যবহারের সক্ষমতা রয়েছে। ফলে উপসাগরীয় অঞ্চলে হামলা এবং হরমুজ প্রণালিতে তেলবাহী জাহাজ চলাচলে বাধা দেওয়ার আশঙ্কা এখনো রয়েছে।

সূত্র: রয়টার্স