রংপুর নগরীর মাছুয়াপাড়ায় একটি বাসা থেকে রংপুর জিলা স্কুলের সাবেক শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তাঁর স্ত্রী ও দুই সন্তানের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও শোক প্রকাশ করছি। গতরাতে উদ্ধার হওয়া চারজনের মরদেহের মধ্যে রয়েছেন গণপতি চক্রবর্তী, তাঁর স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী, ছেলে প্রীয়ম চক্রবর্তী ও মেয়ে আগামী চক্রবর্তী। প্রাথমিকভাবে তাদের শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

একটি পরিবারের চার সদস্যকে এভাবে নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনা অত্যন্ত বেদনাদায়ক ও নিন্দনীয়। এ ঘটনায় শুধু একটি পরিবার নয়, গোটা সমাজের নিরাপত্তা নিয়েই নতুন করে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে চাঁদাবাজি, হামলা, হত্যাসহ নানা ধরনের অপরাধের ঘটনা উদ্বেগ বাড়িয়ে তুলছে। ঢাকায় এক চিকিৎসকের কাছে ডলারে চাঁদা দাবি করে হামলা এবং ময়মনসিংহে এক পশুচিকিৎসকের ওপর একই ধরনের হামলার অভিযোগের পর রংপুরের এ ঘটনা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে জনমনে আরও শঙ্কা তৈরি করেছে।

একটির পর একটি অপরাধের ঘটনায় সাধারণ মানুষের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা বাড়ছে। জনগণ চায়, প্রতিটি ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত হোক, প্রকৃত অপরাধীদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হোক এবং অপরাধ প্রমাণিত হলে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হোক।

বিশেষ করে রংপুরের এই মর্মান্তিক ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত খুঁজে বের করা জরুরি। একই সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভূমিকা ও তদন্তের অগ্রগতি জনসম্মুখে স্পষ্ট করা প্রয়োজন, যাতে মানুষের আস্থা বজায় থাকে।

অপরাধ দমনে শুধু আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কার্যক্রমই যথেষ্ট নয়; সমাজের সর্বস্তরে সচেতনতা বাড়ানোও জরুরি। পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সামাজিক সংগঠন ও নাগরিক সমাজকে সম্মিলিতভাবে অপরাধ প্রতিরোধে ভূমিকা রাখতে হবে।

সরকারের দায়িত্ব হলো নাগরিকের জানমাল ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। তাই আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি, দ্রুত তদন্ত এবং কার্যকর বিচার নিশ্চিত করতে সরকারকে আরও দৃশ্যমান ও কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে।

রংপুরের নিহত চারজনের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাই। আল্লাহ তাআলা তাদের আত্মার মাগফিরাত দান করুন এবং স্বজনদের এই শোক সহ্য করার শক্তি দিন। আমিন।