জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় রাজধানীর উত্তরা এলাকায় মীর মাহফুজুর রহমান মুগ্ধসহ ১১ জনকে হত্যার ঘটনায় করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ২৬ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন হবে কি না, সে বিষয়ে আজ আদেশ দেবেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।
বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ আদেশ দেবেন।
প্যানেলের অন্য দুই সদস্য হলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।
এ মামলায় ২৬ আসামির মধ্যে আটজন কারাগারে রয়েছেন এবং ১৮ জন পলাতক। গ্রেপ্তার আটজনের মধ্যে রয়েছেন ডিএমপির উত্তরা বিভাগের সাবেক অতিরিক্ত উপ-কমিশনার মির্জা সালাহউদ্দিন, উত্তরা পূর্ব থানার সাবেক ওসি মো. মজিবুর রহমান, আজমপুর পুলিশ ফাঁড়ির সাবেক কনস্টেবল মো. হোসেন আলী এবং স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের কয়েকজন নেতা।
পলাতক আসামিদের মধ্যে রয়েছেন ঢাকা-১৮ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মোহাম্মদ হাবিব হাসান, সাবেক ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমান, ডিএমপির উত্তরা বিভাগের সাবেক উপ-পুলিশ কমিশনার কাজী আশরাফুল আজীমসহ পুলিশের বিভিন্ন পর্যায়ের সাবেক কর্মকর্তা এবং আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতারা।
এর আগে গত ৩ আগস্ট উভয় পক্ষের শুনানি শেষে ট্রাইব্যুনাল আজকের দিন আদেশের জন্য ধার্য করেন। শুনানিতে প্রসিকিউশন আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের দাবি জানায়। অন্যদিকে আসামিপক্ষ তাদের মক্কেলদের অব্যাহতি দেওয়ার আবেদন করে।
গত ২১ জুলাই প্রসিকিউশনের শুনানিতে মামলায় আনা দুটি অভিযোগ পড়ে শোনানো হয়। সেখানে মীর মাহফুজুর রহমান মুগ্ধসহ অন্যদের হত্যার বিস্তারিত বর্ণনাও তুলে ধরা হয়।
প্রথম অভিযোগে বলা হয়, ২০২৪ সালের ১৮ জুলাই উত্তরা এলাকায় ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক ও আশপাশে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলন দমনে নির্বিচারে গুলি চালানো হয়। এতে বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালসের (বিইউপি) এমবিএ শিক্ষার্থী মুগ্ধসহ সাতজন নিহত হন।
একই ঘটনায় উবারচালক মোখলেছুর রহমান ওরফে দুর্জয়কে পুলিশের এপিসির চাকায় পিষ্ট করে হত্যার পর মরদেহ গুমের উদ্দেশ্যে তুরাগ নদীতে ফেলে দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। এ ছাড়া মেহেদী হাসানসহ পাঁচজনকে হত্যাচেষ্টার উদ্দেশ্যে গুলি করে গুরুতর আহত করার অভিযোগ আনা হয়েছে।
দ্বিতীয় অভিযোগ অনুযায়ী, ১৯ জুলাই একই এলাকায় আন্দোলনকারীদের ওপর ফের নির্বিচারে গুলি চালানো হয়। এতে রিদোয়ান শরীফ রিয়াদ জয়সহ চারজন নিহত হন। রাইসুল রহমান রাতুলকে হত্যাচেষ্টার উদ্দেশ্যে গুলি করে গুরুতর আহত করার অভিযোগও রয়েছে।
প্রসিকিউশনের দাবি, দুটি অভিযোগে বর্ণিত ঘটনাগুলো পরিকল্পিত, ব্যাপক ও পদ্ধতিগতভাবে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধ।