২০২৭ সালের ২ আগস্ট আকাশে দেখা যাবে বিরল পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ। এরই মধ্যে এটিকে ‘শতাব্দীর সূর্যগ্রহণ’ হিসেবে অভিহিত করা হচ্ছে। সহজে যাওয়া যায় এমন স্থলভাগ থেকে দৃশ্যমান সূর্যগ্রহণগুলোর মধ্যে এটি ২১১৪ সাল পর্যন্ত সবচেয়ে দীর্ঘ হবে বলে জানিয়েছে ইউরোনিউজ।

গ্রহণের সর্বোচ্চ পর্যায়ে মিসরে পূর্ণগ্রাস স্থায়ী হবে প্রায় ৬ মিনিট ২৩ সেকেন্ড। এর তুলনায় ২০২৬ সালের সূর্যগ্রহণের সর্বোচ্চ স্থায়িত্ব ছিল মাত্র ২ মিনিট ১৮ সেকেন্ড।

তবে এই বিরল মহাজাগতিক দৃশ্য দেখতে মিসরেই যেতে হবে এমন নয়। পূর্ণগ্রাসের পথ ইউরোপের জিব্রাল্টার প্রণালি পেরিয়ে উত্তর আফ্রিকা ও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন অঞ্চলের ওপর দিয়ে যাবে।

স্পেনের মারবেলায় পূর্ণগ্রাস দেখা যাবে ৩ মিনিট ২১ সেকেন্ড এবং কাডিজে ২ মিনিট ৫৬ সেকেন্ড। উত্তর আফ্রিকার উপকূলে স্পেনের অধীন সেউতা ও মেলিয়ায় পূর্ণগ্রাস স্থায়ী হবে যথাক্রমে ৪ মিনিট ৪৯ সেকেন্ড ও ৪ মিনিট ৩৪ সেকেন্ড। ব্রিটিশ ওভারসিজ টেরিটরি জিব্রাল্টারে এর স্থায়িত্ব হবে ৪ মিনিট ২৮ সেকেন্ড। ইতালির লামপেদুসায় পূর্ণগ্রাস দেখা যাবে ২ মিনিট ৫৬ সেকেন্ড।

উত্তর আফ্রিকার মরক্কোর টাঙ্গিয়ারে পূর্ণগ্রাস থাকবে ৪ মিনিট ৫১ সেকেন্ড। তিউনিসিয়ার কয়েকটি শহরও থাকবে পূর্ণগ্রাসের পথে। দেশটির দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় বন্দরনগরী সাফাক্সে গ্রহণের স্থায়িত্ব হবে ২ মিনিট ৫৬ সেকেন্ড।

মধ্যপ্রাচ্যের সৌদি আরবের জেদ্দায় পূর্ণগ্রাস দেখা যাবে ৫ মিনিট ৫৩ সেকেন্ড এবং মক্কায় ৫ মিনিট ১০ সেকেন্ড।

দীর্ঘ সময়ের এই পূর্ণগ্রাস দেখতে ইতোমধ্যেই পর্যটকদের আগ্রহ বাড়তে শুরু করেছে। ফলে গ্রহণের পথের অনেক এলাকার হোটেল আগেভাগেই বুক হয়ে যাচ্ছে। অবশিষ্ট থাকার জায়গাগুলোর ভাড়াও বেড়ে গেছে।

তীব্র গরম নিয়ে যারা চিন্তিত, তাদের জন্য রয়েছে কিছুটা স্বস্তির খবর। নাসার গ্রহণবিষয়ক বিজ্ঞানী কেলি কোরেকের মতে, পূর্ণগ্রাসের সময় কোনো কোনো এলাকায় তাপমাত্রা ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত কমে যেতে পারে।

২০২৭ সালের পরও সূর্যগ্রহণ দেখার সুযোগ থাকবে। ২০২৮ সালের ২৬ জানুয়ারি একটি বলয়গ্রাস সূর্যগ্রহণ দেখা যাবে। এরপর ২২ জুলাই অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ দেখা যাবে।

সূত্র: ইউরোনিউজ ইউরোনিউজের প্রতিবেদন