বিশ্বখ্যাত পরিচালক ক্রিস্টোফার নোলানের নতুন সিনেমা ‘দ্য ওডিসি’ দেখার দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান হয়েছে জনপ্রিয় অভিনেত্রী অর্চিতা স্পর্শিয়ার। নিউইয়র্ক ও নিউ জার্সি অঞ্চলের একমাত্র আইম্যাক্স ৭০ মিমি প্রযুক্তির প্রেক্ষাগৃহে সিনেমাটি দেখেছেন তিনি।

নোলানের নির্মাণশৈলী ও আইম্যাক্সের অভিজ্ঞতায় মুগ্ধ হলেও সিনেমাটির প্রদর্শনব্যবস্থা ও গল্প বলার ধরন নিয়ে নিজের কিছু গঠনমূলক মতামত জানিয়েছেন স্পর্শিয়া।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে অভিনেত্রী জানান, সিনেমাটির অরিজিনাল আইম্যাক্স ৭০ মিমি ফরম্যাটে দেখার সুযোগ পাওয়া তার কাছে অনেকটা অলৌকিক অভিজ্ঞতা। তিনি লেখেন, ‘অবশেষে ‘দ্য ওডিসি’ দেখলাম এর প্রকৃত ফরম্যাটে আইম্যাক্স ৭০ মিমি। টিকিট পাওয়া রীতিমতো দুঃস্বপ্নের মতো কঠিন ছিল।’

স্পর্শিয়া জানান, নিউইয়র্ক ও নিউ জার্সি মিলিয়ে পুরো অঞ্চলে মাত্র একটি প্রেক্ষাগৃহে আইম্যাক্স ৭০ মিমি ফিল্ম প্রজেকশনের সুবিধা রয়েছে। ভাগ্যক্রমে ভোরের একটি শোর টিকিট পেয়েছিলেন তিনি।

ছোটবেলায় ভালো লাগা সাহিত্য ও পৌরাণিক কাহিনিগুলো নোলানের বিশাল পর্দায় দেখার অভিজ্ঞতাকে অসাধারণ উল্লেখ করে স্পর্শিয়া বলেন, নির্মাণশৈলী ও কারিগরি দক্ষতার প্রতি তার পূর্ণ শ্রদ্ধা রয়েছে। তবে একই সঙ্গে তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, ‘ছবিটি যেভাবে নির্মাণ করা হয়েছে, সেভাবে যদি অধিকাংশ দর্শক দেখতেই না পারেন, তাহলে এর সার্থকতা কোথায়?’

তার মতে, ১০ বছরের দীর্ঘ যাত্রা ও অসংখ্য ঘটনাকে মাত্র তিন ঘণ্টার মধ্যে তুলে ধরা নিঃসন্দেহে কঠিন। তবে গল্প বলার ক্ষেত্রে এটিকে আরও বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে নেওয়ার সুযোগ ছিল বলে মনে করেন তিনি।

স্পর্শিয়া বলেন, আইম্যাক্স ৭০ মিমির ওপর পুরোপুরি নির্ভর না করে গল্প বলার দিকে আরও বেশি মনোযোগ দেওয়া যেত। তার ভাষায়, এই ধরনের সীমিত প্রদর্শনব্যবস্থা দীর্ঘমেয়াদে টেকসই নয়।

পোস্টের শেষদিকে অভিনেত্রী উল্লেখ করেন, বিশ্বজুড়ে মাত্র ৪১টি প্রেক্ষাগৃহে সিনেমাটি ওই বিশেষ ফরম্যাটে প্রদর্শনের সক্ষমতা রয়েছে, যার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ২৫টি। তাই তার কাছে পুরো বিষয়টি সাধারণ সিনেমা দেখার অভিজ্ঞতার চেয়ে ‘একটি প্রিমিয়াম ইভেন্ট’ বলেই বেশি মনে হয়েছে।