রাশিয়া ও ইউক্রেনের বিভিন্ন অঞ্চলে রোববার রাতভর ব্যাপক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে উভয় পক্ষ। এসব হামলায় আবাসিক ভবন, শিল্পকারখানা ও গুদামসহ বিভিন্ন স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে দুই দেশ মিলিয়ে অন্তত ১০ জন নিহত হয়েছেন।
রাশিয়ার দক্ষিণাঞ্চলীয় রোস্তভ অঞ্চলের গভর্নর ইউরি স্লিউসার জানিয়েছেন, রাতভর ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলায় সেখানে পাঁচজন নিহত হয়েছেন। হামলায় কয়েকটি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি দুটি বনাঞ্চলে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। রুশ কর্তৃপক্ষের দাবি, হামলার লক্ষ্যবস্তুর মধ্যে সামরিক ও শিল্প অবকাঠামোও ছিল।
এদিকে মস্কো অঞ্চলেও বড় ধরনের ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইউক্রেন। মস্কোর মেয়র সের্গেই সোবিয়ানিনের দাবি, রাজধানীমুখী প্রায় ৬০০টি ইউক্রেনীয় ড্রোন শনাক্ত করা হয়। রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, রাতভর দেশজুড়ে মোট ৮২২টি ইউক্রেনীয় ড্রোন ধ্বংস করা হয়েছে।
মস্কোর কাছের পোদোলস্ক এলাকায় অনলাইন খুচরা বিক্রেতা ওয়াইল্ডবেরিজের একটি বড় গুদামে ড্রোন হামলার পর আগুন ধরে যায়। মস্কো অঞ্চলের গভর্নর আন্দ্রেই ভোরোবিয়ভ জানিয়েছেন, ওই ঘটনায় ৮৩ বছর বয়সী এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন এবং আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন।
হামলায় মস্কো অঞ্চলের একটি গুদাম ও শিল্প স্থাপনাতেও আগুন লাগার খবর পাওয়া গেছে। পরিস্থিতির কারণে রাজধানীর আশপাশের বিমান চলাচলেও সাময়িক প্রভাব পড়ে।
অন্যদিকে, ইউক্রেনেও রাতভর ব্যাপক বিমান হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। ইউক্রেনীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এসব হামলায় অন্তত পাঁচজন নিহত হয়েছেন। কিয়েভসহ বিভিন্ন এলাকায় ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় ভবনে আগুন ধরে যায় এবং বেশ কয়েকজন আহত হন।
ক্রিভি রিহ শহরে রুশ হামলায় একটি ইস্পাত কারখানা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। স্থানীয় কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, সেখানে দুইজন নিহত ও ১৪ জন আহত হয়েছেন। ইউক্রেনের দাবি, রাশিয়া সামরিক ও শিল্প অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে।
ইউক্রেনের বিমানবাহিনী জানিয়েছে, রাশিয়ার ছোড়া বিপুলসংখ্যক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের একটি বড় অংশ আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দিয়ে প্রতিহত করা হয়েছে। কিয়েভসহ বিভিন্ন এলাকায় সকাল পর্যন্ত বিমান হামলার সতর্কতা জারি ছিল।
এদিকে রাশিয়া-ইউক্রেনের পাল্টাপাল্টি হামলার প্রভাব পড়েছে প্রতিবেশী ন্যাটো সদস্য রোমানিয়াতেও। দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, রোমানিয়ার আকাশসীমায় ঢুকে পড়া একটি ড্রোনকে স্পেনের একটি এফ-১৮ যুদ্ধবিমান গুলি করে ভূপাতিত করেছে। ড্রোনটির উৎস তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করা না হলেও ন্যাটোর এক কর্মকর্তা এটিকে রুশ ড্রোন বলে ধারণা করেছেন।
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের সাম্প্রতিক সময়ে উভয় পক্ষই সীমান্তের অনেক দূরের লক্ষ্যবস্তুতে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা বাড়িয়েছে। জাতিসংঘের হিসাবে, গত জুলাইয়ে ইউক্রেনে বেসামরিক হতাহতের সংখ্যা আগের মাসের তুলনায় প্রায় ৩০ শতাংশ বেড়েছে। ২০২২ সালের মে মাসের পর ওই মাসেই ইউক্রেনে সবচেয়ে বেশি বেসামরিক হতাহত হয়েছে।