যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে যুদ্ধের শুরুর দিকে কাতারের রাজধানী দোহার আল-উদেইদ মার্কিন বিমানঘাঁটিতে হামলা চালাতে গিয়েছিল ইরানের দুটি সুখোই-২৪ যুদ্ধবিমান। তবে মাঝ আকাশেই বিমান দুটি ভূপাতিত করার দাবি করেছে কাতার।

শনিবার (১৫ আগস্ট) ইরানের সংবাদমাধ্যমে দেশটির সেনাবাহিনীর কমান্ডার সৈয়দ মোহাম্মদ বাঘেরজাদেহর বরাত দিয়ে দাবি করা হয়, ওই দুই যুদ্ধবিমানের চার পাইলটের মধ্যে তিনজনকে জীবিত অবস্থায় আটক করেছে কাতারি বাহিনী। অন্য একজনের মরদেহ ইরানের কাছে ফেরত দেওয়া হয়েছে।

তবে ইরানের এই দাবি সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে কাতার। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাজেদ আল-আনসারি বলেছেন, ইরানি পাইলটদের আটকের বিষয়ে ছড়িয়ে পড়া গুজব সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।

তিনি বলেন, ‘ইরানি পাইলটদের আটক করার যেসব গুঞ্জন ছড়ানো হচ্ছে, আমরা তা পুরোপুরি প্রত্যাখ্যান করছি। এ অঞ্চলে উত্তেজনা কমাতে যখন একের পর এক কূটনৈতিক প্রচেষ্টা ও উদ্যোগ চলছে, ঠিক এমন সময়ে এ ধরনের বিভ্রান্তিকর বক্তব্যে আমরা সত্যিই বিস্মিত।’

ইরানি কমান্ডার বাঘেরজাদেহর দাবি অনুযায়ী, যুদ্ধবিমান দুটি ভূপাতিত হওয়ার সময় তিন পাইলট বিমান থেকে বের হয়ে যেতে সক্ষম হন। অপর একজন নিহত হন। কয়েক দিন আগে কাতার ওই পাইলটের মরদেহ ফেরত দিয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

বাঘেরজাদেহ আরও দাবি করেন, নিখোঁজ তিন পাইলট হলেন জাভেদ সালেহী, আব্দুলমাজিদ দেস্তিয়ান ও ওমরান বেহ রোসিয়া। তাদের কাতারি সেনারা জীবিত অবস্থায় আটক করেছে বলেও দাবি করেন তিনি। এমনকি গত ছয় মাস ধরে ওই পাইলটদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ বা সাক্ষাতের সুযোগ দেওয়া হয়নি বলেও অভিযোগ করেন ইরানি এই কমান্ডার।

তবে কাতারের মুখপাত্র মাজেদ আল-আনসারি বলেন, ইরানি যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হওয়ার পর পাইলটদের সন্ধানে কাতারি উদ্ধারকারী দল অভিযান চালায়। ওই অভিযানে তারা একজনের মরদেহ উদ্ধার করে। উদ্ধারকাজের বিষয়ে ইরানকে জানাতে কাতার যোগাযোগের চেষ্টা করেছিল, কিন্তু তেহরান এতে কোনো সাড়া দেয়নি।

ফলে ইরানের তিন পাইলট আটকের দাবি এবং কাতারের অস্বীকৃতিকে ঘিরে দুই দেশের মধ্যে নতুন করে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে।