ঢাকার বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় মডেল ও অভিনেত্রী রিধিকা রিধির ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় করা আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলায় তার প্রেমিক হাসিবুর রহমানকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেছে পুলিশ।
রোববার মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ভাটারা থানার এসআই আব্দুল ওয়াদুত ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এ আবেদন করেন। প্রসিকিউশন পুলিশের এসআই কামাল হোসেন জানান, মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মাহবুব আলমের আদালতে এ আবেদনের শুনানি হবে।
এর আগে শনিবার রিধির বাসা থেকে তার প্রেমিক হাসিবুর রহমানকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। ভাটারা থানার ওসি মাজহারুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
হাসিবুরকে কারাগারে আটক রাখার আবেদনে তদন্ত কর্মকর্তা উল্লেখ করেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ ও মামলার তদন্তে বাদীর আনা অভিযোগের পক্ষে ‘যথেষ্ট তথ্য-প্রমাণ’ পাওয়া গেছে। পুলিশ দাবি করেছে, জিজ্ঞাসাবাদে হাসিবুর অপরাধের কথা স্বীকার করেছেন এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথাও জানিয়েছেন।
তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত থাকায় তাকে কারাগারে আটক রাখা প্রয়োজন বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। জামিনে মুক্তি পেলে তিনি পালিয়ে যেতে পারেন বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেছে পুলিশ।
পুলিশ ও পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, শনিবার সকালে বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার নিজের বাসার শয়নকক্ষে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে রিধিকাকে ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া যায়। পরে পরিবারের সদস্যরা তাকে উদ্ধার করে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
এ ঘটনায় ওই দিনই রিধিকার মা বাদী হয়ে ভাটারা থানায় আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে মামলা করেন। মামলায় রিধিকার প্রেমিক হাসিবুর রহমানকে আসামি করা হয়েছে।
পুলিশের ভাষ্য, ঘটনার দিন রিধিকার বাসায় তাকে দেখতে এসেছিলেন হাসিবুর। সেখান থেকেই তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ আরও জানতে পেরেছে, ঘটনার সময় রিধিকা তার প্রেমিকের সঙ্গে ভিডিও কলে ছিলেন।
তবে ঘটনাটি প্রাথমিকভাবে আত্মহত্যা বলে মনে হলেও এর প্রকৃত কারণ এবং মৃত্যুর পেছনের পরিস্থিতি খতিয়ে দেখছে পুলিশ। রিধিকাকে কেউ আত্মহত্যায় প্ররোচিত করেছিলেন কি না, সেটিও তদন্তের আওতায় রয়েছে।
মডেলিংয়ের পাশাপাশি অভিনয়েও যুক্ত ছিলেন রিধিকা রিধি। বেশ কয়েকটি নাটকে অভিনয় করেছেন তিনি। তার অভিনীত নাটকের মধ্যে রয়েছে ‘এখানে মানুষ বিক্রি হয়’, ‘বহুরূপী’, ‘ডাবল হানিমুন’ ও ‘সুন্দরী’।