বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেছেন, দেশের বিভিন্ন মিল ও কারখানা গ্যাস সংকটে ভুগছে—এটি অস্বীকার করার সুযোগ নেই। তবে এই সংকট বর্তমান সরকারের তৈরি নয়; এটি উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া। আগামী দুই বছরের মধ্যে সমস্যার পূর্ণাঙ্গ সমাধান সম্ভব বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
শনিবার (১৫ আগস্ট) সিলেটে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর আয়োজিত কর্মশালা শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।
ভাসমান এলএনজি টার্মিনালেই সমাধান?
বিদ্যুৎ-গ্যাস পরিস্থিতি প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, গরমের কারণে বিদ্যুতের চাহিদা বেড়েছে। শীতকালে এই চাহিদা কমে যাবে। পাশাপাশি দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল (এফএসআরইউ) থেকে পূর্ণ সক্ষমতায় গ্যাস পাওয়া গেলে বিদ্যুৎ ও শিল্পখাতের সংকট অনেকটাই কমে আসবে।
তিনি জানান, গত ৫-১০ দিনের পরিস্থিতি কিছুটা খারাপ হওয়ার অন্যতম কারণ ছিল—দুটি এফএসআরইউর একটি থেকে গ্যাস নামানো সম্ভব না হওয়া। তবে অন্যটি থেকে নতুন করে গ্যাস নামানো শুরু হয়েছে, যার সুফল ইতোমধ্যে পাওয়া যাচ্ছে।
মালয়েশিয়া থেকে এলএনজি আমদানির উদ্যোগ
বাণিজ্যমন্ত্রী জানান, মালয়েশিয়া থেকে এলএনজি আমদানির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর টেলিফোনে কথা হয়েছে।
তিনি বলেন, পেট্রোনাস থেকে বড় জাহাজে করে গ্যাস এনে বাংলাদেশের বহিঃসমুদ্রে ছোট জাহাজে স্থানান্তরের মাধ্যমে এলএনজি সরবরাহ বাড়ানোর চেষ্টা চলছে। তবে মালয়েশিয়ার ছোট এলএনজি পরিবহনকারী জাহাজগুলো আগে থেকেই বুকড থাকায় উদ্যোগটি বাস্তবায়নে কিছু জটিলতা রয়েছে।
নতুন বিনিয়োগের জন্য জ্বালানি নিশ্চয়তা অপরিহার্য
শিল্প-কারখানায় গ্যাস ও জ্বালানি সংকট প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, এটি দেশের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ। নতুন বিনিয়োগের জন্য জ্বালানির নিশ্চয়তা অপরিহার্য। তিনি জানান, প্রচলিত টেন্ডার প্রক্রিয়ার বাইরে গিয়েও সরকার সংকট সমাধানে পদক্ষেপ নিচ্ছে।
‘দুই বছর পর্যন্ত হাত গুটিয়ে বসে থাকার সুযোগ নেই। এর মধ্যে সাময়িকভাবে কী করা যায় এবং প্রচলিত টেন্ডার প্রক্রিয়ার বাইরে গিয়ে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া যায় কি না, সরকার তা খতিয়ে দেখছে।’