চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার ভাটিয়ারী এলাকায় একটি শিপইয়ার্ডে জাহাজ ভাঙার সময় বিষাক্ত গ্যাসে আক্রান্ত হয়ে নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮ জনে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন ১০ জনের বেশি শ্রমিক। শুক্রবার (১৪ আগস্ট) সকালে ফেরদৌস স্টিল শিপ রিসাইক্লিং ইন্ডাস্ট্রিজ নামের জাহাজভাঙা কারখানায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

ফায়ার সার্ভিস ও সংশ্লিষ্টদের তথ্যমতে, পুরোনো একটি এলএনজিবাহী জাহাজ ভাঙার কাজ চলছিল শিপইয়ার্ডটিতে। এ সময় কয়েকজন শ্রমিক জাহাজের ভেতরের একটি বদ্ধ কক্ষে প্রবেশ করলে বিষাক্ত গ্যাসে আক্রান্ত হন। এতে ঘটনাস্থলেই কয়েকজনের মৃত্যু হয়। পরে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় অন্যদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে আরও কয়েকজনের মৃত্যু হয়।

নিহতদের মধ্যে ছয়জনের পরিচয় পাওয়া গেছে। তারা হলেন—নাসির উদ্দিন (৪৭), মনসুর আহমদ (৫৫), সানি জলদাশ (৩৫), পলাশ জলদাশ (৩৯), মো. খোকন (৪০) ও মো. রানা (২৭)।

নাসির উদ্দিন ও মনসুর আহমদ সম্পর্কে দুই ভাই। তারা সেকান্দর মিয়ার ছেলে। আর সানি জলদাশ ও পলাশ জলদাশ সীতাকুণ্ডের ভাটিয়ারী মৌলভীপাড়া ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা। নিহত খোকন ও রানা গাইবান্ধার বাসিন্দা।

কুমিরা ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের সিনিয়র স্টেশন অফিসার আল মামুন জানান, জাহাজের ভেতরের একটি বদ্ধ কক্ষে শ্রমিকরা প্রবেশ করার পর বিষাক্ত গ্যাসে আক্রান্ত হন। পরে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করেন এবং অসুস্থ শ্রমিকদের হাসপাতালে পাঠানো হয়।

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই নুরুল আলম আশেক বলেন, বিষাক্ত গ্যাসে আক্রান্ত হয়ে সাতজনকে হাসপাতালে আনা হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের মধ্যে ছয়জনকে মৃত ঘোষণা করেন।

সীতাকুণ্ড থানার ওসি তদন্ত মো. আলমগীর জানান, ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থল থেকে দুজনের মরদেহ উদ্ধার করে। পরে হাসপাতালে নেওয়ার পর আরও কয়েকজনকে মৃত ঘোষণা করা হয়। সর্বশেষ পাওয়া তথ্যে নিহতের সংখ্যা আটজনে দাঁড়িয়েছে।

এদিকে দুর্ঘটনার পর শিপইয়ার্ডে বিস্ফোরণ হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে খবর ছড়িয়ে পড়ে। তবে চট্টগ্রাম পুলিশ সুপার (এসপি) মাহমুদা বেগম বিষয়টি নাকচ করে বলেন, বিস্ফোরণের খবর সঠিক নয়। বিষাক্ত গ্যাস লিকেজের কারণেই শ্রমিকদের মৃত্যু হয়েছে।

শিপইয়ার্ডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ফেরদৌস ওয়াহিদ বলেন, ঘটনাটি তদন্ত করে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনের চেষ্টা চলছে।

দুর্ঘটনার পর শিপইয়ার্ডে উদ্ধার তৎপরতা চালানো হয়। আহতদের চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।