এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলে এবারও ছেলেদের চেয়ে এগিয়ে মেয়েরা। পাসের হার ও জিপিএ-৫—দুই সূচকেই ১১ শিক্ষা বোর্ডে মেয়েদের কাছে পিছিয়ে রয়েছে ছেলেরা। সার্বিকভাবে মেয়েদের পাসের হার ৬৬ দশমিক ৬৮ শতাংশ, বিপরীতে ছেলেদের ৫৭ দশমিক ৮৬ শতাংশ। অর্থাৎ পাসের হারে ছেলেদের চেয়ে মেয়েরা এগিয়ে ৮ দশমিক ৮২ শতাংশ পয়েন্ট।
চলতি বছরের মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) ও সমমানের পরীক্ষার ফল প্রকাশ হয়েছে। সোমবার সকাল ১০টায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আনুষ্ঠানিকভাবে ফল ঘোষণা করেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।
দেশের ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ড, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডসহ মোট ১১টি শিক্ষা বোর্ডের কোনো বোর্ডেই পাসের হার কিংবা জিপিএ-৫ পাওয়ার দৌড়ে মেয়েদের টপকাতে পারেনি ছেলেরা।
এবার ১১টি শিক্ষা বোর্ডে গড় পাসের হার ৬২ দশমিক ২৫ শতাংশ। এর মধ্যে ছাত্রীদের পাসের হার ৬৬ দশমিক ৬৮ শতাংশ এবং ছাত্রদের ৫৭ দশমিক ৮৬ শতাংশ।
জিপিএ-৫ পাওয়ার দৌড়েও মেয়েরা এগিয়ে
এবার মোট ১ লাখ ১৬ হাজার ৬৭৬ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছে। তাদের মধ্যে ছাত্রী ৬৩ হাজার ৮৯৬ জন এবং ছাত্র ৫২ হাজার ৭৮০ জন।
অর্থাৎ জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীদের মধ্যেও মেয়েদের সংখ্যা ছেলেদের তুলনায় ১১ হাজার ১১৬ জন বেশি।
গত বছর জিপিএ-৫ পেয়েছিল ৭৩ হাজার ৬১৬ জন ছাত্রী ও ৬৫ হাজার ৪১৬ জন ছাত্র। সেবারও জিপিএ-৫ পাওয়ার ক্ষেত্রে মেয়েরা এগিয়ে ছিল।
সাধারণ বোর্ডে বড় ব্যবধানে মেয়েরা এগিয়ে
৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে ছাত্রীদের পাসের হার ৬৭ দশমিক ৯১ শতাংশ। বিপরীতে ছাত্রদের পাসের হার ৫৯ দশমিক ৭৩ শতাংশ। অর্থাৎ সাধারণ শিক্ষা বোর্ডেও পাসের হারে মেয়েদের সঙ্গে ছেলেদের ব্যবধান ৮ দশমিক ১৮ শতাংশ পয়েন্ট।
মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডে ছেলেদের পাসের হার ৫১ দশমিক ৬৪ শতাংশ হলেও মেয়েদের পাসের হার ৫৯ দশমিক ৮৯ শতাংশ। এখানেও মেয়েরা এগিয়ে ৮ দশমিক ২৫ শতাংশ পয়েন্ট।
কারিগরি শিক্ষা বোর্ডে ব্যবধান আরও বেশি। সেখানে ছাত্রদের পাসের হার ৫১ দশমিক ১৪ শতাংশ, আর ছাত্রীদের পাসের হার ৬৭ দশমিক ৮৪ শতাংশ। অর্থাৎ কারিগরি বোর্ডে মেয়েরা ছেলেদের চেয়ে এগিয়ে ১৬ দশমিক ৭০ শতাংশ পয়েন্ট।
ফলে সাধারণ, মাদ্রাসা ও কারিগরি—তিন ধারার শিক্ষাব্যবস্থাতেই এবার পাসের হারে ছেলেদের পেছনে ফেলেছে মেয়েরা।