প্রযুক্তি ডেস্ক: বিশ্ববাজারে বিক্রি শুরুর কয়েক দিনের মধ্যেই অ্যাপলের প্রথম ফোল্ডিং স্মার্টফোন ‘আইফোন ডুয়ো’র স্ক্রিনে ফাটল দেখা দেওয়ার অভিযোগ করেছেন ব্যবহারকারীরা। বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে ডিভাইসটির অল্পসংখ্যক ইউনিটে সমস্যা দেখা দেওয়ার কথা স্বীকার করেছে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানটি। তবে এটি বড় ধরনের ত্রুটি কি না, তা নির্ধারণের মতো পর্যাপ্ত তথ্য এখনো পাওয়া যায়নি বলে মনে করছেন প্রযুক্তি বিশ্লেষকরা। খবর দ্য গার্ডিয়ানের।
গত শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) বিশ্ববাজারে বিক্রি শুরু হয় ফোনটির। এর প্রারম্ভিক মূল্য ১ হাজার ৯৯৯ ডলার। বিক্রি শুরুর পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও অনলাইন ফোরাম রেডিটে ফোনটির স্ক্রিনে ফাটল দেখা দেওয়ার অভিযোগ প্রকাশ করছেন ব্যবহারকারীরা।
অ্যাপল জানিয়েছে, আইফোন ডুয়োর ভেতরের স্ক্রিনে অল্পসংখ্যক ইউনিটে সমস্যা দেখা গেছে। কোনো গ্রাহক এ ধরনের সমস্যায় পড়লে ফোন প্রতিস্থাপনের বিষয়ে অ্যাপলকেয়ারের সঙ্গে যোগাযোগ করার পরামর্শ দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
অস্ট্রেলিয়ার এক ব্যবহারকারী রেডিটে দাবি করেছেন, ফোনটি হাতে পাওয়ার মাত্র ছয় ঘণ্টার মধ্যে এর স্ক্রিনে ফাটল দেখা দেয়। এক বন্ধুকে ফোনটি দেখানোর সময় খুলতে গিয়ে স্ক্রিনের নিচের দিকে অস্বাভাবিক কিছু অনুভব করেন তিনি। পরে ফোনটি খুলতে থাকলে ফাটলের মতো শব্দ শুনতে পান এবং স্ক্রিনে ক্ষতি দেখতে পান। তাঁর প্রকাশ করা ছবিতে ডিসপ্লের এক পাশে সাদা আলোর মতো একটি দাগ দেখা যায়।
ওই ব্যবহারকারীর দাবি, স্থানীয় অ্যাপল স্টোরে নিয়ে যাওয়ার পর তাঁর ফোনটি দ্রুত প্রতিস্থাপন করে দেওয়া হয়। তবে এ ঘটনার সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি দ্য গার্ডিয়ান। অস্ট্রেলিয়ার আরেক ব্যবহারকারীও প্রায় একই ধরনের শব্দ শোনার পর স্ক্রিনে সমস্যা দেখা দেওয়ার কথা জানিয়েছেন। এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের ব্যবহারকারীদের কাছ থেকেও একই ধরনের অভিযোগ পাওয়ার কথা জানিয়েছে ব্লুমবার্গ।
অ্যাপলের ধারণা, যেসব ইউনিটে সমস্যা রয়েছে, সেগুলোতে ব্যবহারের অল্প সময়ের মধ্যেই ত্রুটি প্রকাশ পাচ্ছে। তবে নতুন ফোনটি নিয়ে প্রাথমিক ব্যবহারকারীদের প্রতিক্রিয়াকে ইতিবাচক বলে বর্ণনা করেছে প্রতিষ্ঠানটি।
অ্যাপলের নতুন প্রধান নির্বাহী জন টার্নাসের নেতৃত্বে এটি প্রতিষ্ঠানটির অন্যতম আলোচিত পণ্য উন্মোচন। গত সেপ্টেম্বরে টিম কুকের স্থলাভিষিক্ত হন টার্নাস।
প্রযুক্তি গবেষণা প্রতিষ্ঠান আইডিসির তথ্য ও বিশ্লেষণ বিভাগের ভাইস প্রেসিডেন্ট ফ্রান্সিসকো জেরোনিমো বলেছেন, স্ক্রিনের সমস্যাটি কতটা গুরুতর, তা বলার সময় এখনো আসেনি। নতুন কোনো পণ্য বাজারে আসার পর এ ধরনের সমস্যা দেখা দিতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
২০১৯ সালে স্যামসাংয়ের প্রথম গ্যালাক্সি ফোল্ড বাজারে আনার সময়ও একই ধরনের সমস্যার কথা উল্লেখ করেন জেরোনিমো। তাঁর মতে, দ্রুত ও স্বচ্ছভাবে ত্রুটির সমাধান করতে পারলে নতুন পণ্যশ্রেণির ওপর এর নেতিবাচক প্রভাব সীমিত রাখা সম্ভব। সমস্যায় পড়া গ্রাহকদের ফোন প্রতিস্থাপনের সুযোগ দিয়ে অ্যাপল সঠিক পদক্ষেপ নিয়েছে বলেও মনে করেন তিনি।
অন্যদিকে, প্রযুক্তি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সিসিএসের প্রধান বিশ্লেষক বেন উড এ বিষয়ে সতর্ক অবস্থান নিয়েছেন। তাঁর মতে, এখন পর্যন্ত আইফোন ডুয়োতে ব্যাপক পরিসরে ত্রুটি দেখা দেওয়ার কোনো প্রমাণ নেই।
সব মিলিয়ে, নতুন ফোল্ডিং আইফোনের স্ক্রিনে ফাটলের অভিযোগ অ্যাপলের জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। তবে অভিযোগের প্রকৃত ব্যাপ্তি, ত্রুটির কারণ এবং দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব সম্পর্কে নিশ্চিত হতে আরও তথ্য ও ব্যবহারকারীদের অভিজ্ঞতা বিশ্লেষণ করা প্রয়োজন।
সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান,