জর্ডানের একটি গির্জায় বন্দুকধারীর হামলায় ৯ জন নিহত হওয়ার ঘটনার পর সিরিয়ায় বিমান হামলা চালিয়েছে জর্ডান। সোমবার (২৬ অক্টোবর) দক্ষিণ সিরিয়ার দারা প্রদেশের একটি গ্রামে চালানো এ হামলায় নারী ও শিশুসহ পাঁচজন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে সিরিয়ার স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা। তবে জর্ডানের সামরিক বাহিনীর দাবি, হামলায় বেশ কয়েকজন সন্ত্রাসী নিহত ও আহত হয়েছেন। খবর বিবিসির।

জর্ডানের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, সিরিয়ায় সন্ত্রাসী সংগঠনগুলোর অবস্থান লক্ষ্য করে এ হামলা চালানো হয়েছে। তবে হতাহতদের সংখ্যা ও পরিচয় সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেনি তারা।

জর্ডানের দাবি, হামলার আগে সিরিয়ার সরকারের সঙ্গে সমন্বয় করা হয়েছিল। তবে সিরিয়ার পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সোমবারের হামলার বিষয়ে তাদের আগাম কিছু জানানো হয়নি।

এর আগে গত শুক্রবার জর্ডানের কারাক শহরের একটি গ্রিক অর্থোডক্স গির্জায় অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার অনুষ্ঠানে বন্দুকধারীর হামলায় নয়জন নিহত এবং ৩৪ জন আহত হন।

এদিকে, জর্ডানের বিমান হামলার পর দুই দেশের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ নাসিব সীমান্ত ক্রসিং বন্ধ করে দিয়েছে সিরিয়া। সিরিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, যাত্রী ও কর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সীমান্ত দিয়ে যাত্রী ও বাণিজ্যিক যানবাহন চলাচল উভয় দিকেই স্থগিত করা হয়েছে।

বিবৃতিতে আরও জানানো হয়, হামলার প্রকৃত পরিস্থিতি উদ্‌ঘাটনে তদন্ত শুরু হয়েছে এবং এ বিষয়ে জর্ডানের কর্মকর্তাদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের ব্যবস্থা করা হয়েছে। নাসিব সীমান্ত ক্রসিং জর্ডান ও সিরিয়ার মধ্যে যাত্রী ও বাণিজ্যিক যান চলাচলের গুরুত্বপূর্ণ পথ।

অন্যদিকে, জর্ডানের গির্জায় হামলার ঘটনায় দুই ভাই ও তাদের ভগ্নিপতিকে গ্রেপ্তার করেছে দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী। সোমবার দিনের শুরুতে জর্ডানের জ্যেষ্ঠ নিরাপত্তা কর্মকর্তারা এ তথ্য জানান।

জর্ডানের জননিরাপত্তা অধিদপ্তর জানায়, কারাক শহরের একটি পরিত্যক্ত বাড়িতে ভোর হওয়ার আগে আত্মগোপনে থাকা অবস্থায় তাদের আটক করা হয়। তবে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের নাম প্রকাশ করা হয়নি।

জর্ডানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মাজেন আল-ফারায়া রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনকে জানান, হামলাকারীরা সবাই জর্ডানের নাগরিক। হামলার স্থানটির কাছাকাছি একটি গ্রামের ভবনে তারা আত্মগোপন করেছিলেন

সূত্র: বিবিসি