ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচন ঘিরে উন্নয়ন ও পরিবর্তনের প্রতিশ্রুতি, নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ এবং সুষ্ঠু ভোটের পরিবেশ নিয়ে পাল্টাপাল্টি বক্তব্যে সরব হয়ে উঠেছে নির্বাচনী মাঠ। ভোটের দিন ঘনিয়ে আসায় প্রধান দুই প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীরা শেষ মুহূর্তে ভোটারদের মন জয় করতে জনসভা, পথসভা ও গণসংযোগে ব্যস্ত সময় পার করছেন।

আসনটি শূন্য হওয়ার পর অনুষ্ঠিতব্য এ উপনির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী জেলা বিএনপির সভাপতি মির্জা ফয়সল আমীন। অন্যদিকে, ১১ দলীয় জোট-সমর্থিত জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেন। দুই প্রার্থীই নিজ নিজ দলের প্রতিশ্রুতি তুলে ধরে ভোটারদের সমর্থন আদায়ের চেষ্টা করছেন।

বিএনপি তাদের নির্বাচনী প্রচারে উন্নয়ন ও চলমান উদ্যোগের ধারাবাহিকতার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে। ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয় ও মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠার কাজ দ্রুত বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ধানের শীষের পক্ষে ভোট চাইছেন দলটির নেতাকর্মীরা।

অন্যদিকে, পরিবর্তনের স্লোগান সামনে রেখে ভোটারদের আকৃষ্ট করার চেষ্টা করছে জামায়াতে ইসলামী। দলটির নেতারা সুশাসন প্রতিষ্ঠা, চাঁদাবাজি বন্ধ এবং সিন্ডিকেটমুক্ত সমাজ গড়ার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন। পাশাপাশি নির্বাচনে সব প্রার্থীর জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে নির্বাচন কমিশনের কঠোর ভূমিকা দাবি করেছে দলটি।

শনিবার (২৪ অক্টোবর) দিনভর দুই প্রার্থীর প্রচার-প্রচারণায় মুখর ছিল নির্বাচনী এলাকা। বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফয়সল আমীন রহিমাপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় পথসভা করেন। রাতে সাহাপাড়া জামে মসজিদের সামনে এবং নিশ্চিন্তপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে পথসভার মধ্য দিয়ে তাঁর দিনের প্রচার শেষ করার কথা ছিল।

অন্যদিকে, জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেন সকালে ঠাকুরগাঁও বালক উচ্চবিদ্যালয় মাঠে, যা বড়মাঠ নামে পরিচিত, নির্বাচনী জনসভা করেন। এতে জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, ডাকসুর ভিপি সাদেক কায়েমসহ দলটির কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন। পরে বিকেলে ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচন নিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন মিয়া গোলাম পরওয়ার।

নির্বাচনী প্রচারের পাশাপাশি আচরণবিধি প্রতিপালন ও ভোটের পরিবেশ নিয়েও আলোচনা চলছে। আগামী ২৬ অক্টোবর মধ্যরাতে নির্বাচনী প্রচার শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। সুশৃঙ্খল ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটগ্রহণের জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন।

শেষ সময়ে দুই পক্ষের প্রচার-তৎপরতা বাড়ায় নির্বাচনী এলাকায় প্রতিদ্বন্দ্বিতা আরও দৃশ্যমান হয়ে উঠেছে। এখন ভোটারদের সমর্থন আদায়ে উন্নয়ন ও পরিবর্তনের প্রতিশ্রুতির মধ্যে কোনটি বেশি প্রভাব ফেলবে, সেদিকেই নজর সংশ্লিষ্টদের।