মহাকাশ গবেষণায় নতুন ইতিহাস গড়ার লক্ষ্যে মঙ্গল গ্রহের উপগ্রহ ফোবোস থেকে মাটি ও পৃষ্ঠের নমুনা সংগ্রহ করে পৃথিবীতে ফিরিয়ে আনার অভিযান শুরু করতে যাচ্ছে জাপান। আগামী মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) দেশটির মহাকাশ গবেষণা সংস্থা জাক্সা এই অভিযান পরিচালনা করবে। সফল হলে মঙ্গলের কোনো উপগ্রহে অবতরণ করে সেখান থেকে নমুনা সংগ্রহ ও পৃথিবীতে ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে এটিই হবে বিশ্বের প্রথম অভিযান।
রোববার (১৮ অক্টোবর) জাপানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম এনএইচকের বরাতে তুরস্কের সংবাদ সংস্থা আনাদোলু এজেন্সি এ তথ্য জানিয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, জাপানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় কাগোশিমা প্রিফেকচারের তানেগাশিমা মহাকাশ কেন্দ্র থেকে এইচ-৩ রকেটের মাধ্যমে ‘মার্সিয়ান মুনস এক্সপ্লোরেশন’ বা এমএমএক্স নামের মহাকাশযানটি উৎক্ষেপণ করা হবে।
জাপান অ্যারোস্পেস এক্সপ্লোরেশন এজেন্সি (জাক্সা) পরিচালিত এই উচ্চাভিলাষী অভিযানে থাকবে তিনটি পৃথক মডিউল। প্রকল্পটির উন্নয়ন ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৩৫ কোটি মার্কিন ডলার।
যেভাবে সংগ্রহ করা হবে ফোবোসের নমুনা
অভিযানের অনুসন্ধান মডিউলে থাকবে অত্যাধুনিক নমুনা সংগ্রহের সরঞ্জাম, বিভিন্ন পর্যবেক্ষণ যন্ত্র এবং দুটি অতি উচ্চ রেজল্যুশনের ক্যামেরা।
এসব যন্ত্রের সাহায্যে ফোবোসের পৃষ্ঠের গঠন, বৈশিষ্ট্য ও উপাদান পর্যবেক্ষণ করা হবে। পাশাপাশি উপগ্রহটির পৃষ্ঠ থেকে নমুনা সংগ্রহ করে তা পৃথিবীতে ফিরিয়ে আনার পরিকল্পনা রয়েছে বিজ্ঞানীদের।
উৎক্ষেপণের প্রায় এক বছর পর মহাকাশযানটি মঙ্গল গ্রহের কাছাকাছি পৌঁছাবে বলে আশা করা হচ্ছে। এরপর প্রায় তিন বছর ধরে মঙ্গল ও এর প্রাকৃতিক উপগ্রহগুলো পর্যবেক্ষণ করবে অভিযানটি।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, সংগৃহীত নমুনাবাহী প্রত্যাবর্তন মডিউলটি ২০৩২ সালের মার্চে শেষ হতে যাওয়া জাপানের অর্থবছরের মধ্যে পৃথিবীতে ফিরে আসতে পারে।
মঙ্গলের রহস্য উন্মোচনে নতুন সম্ভাবনা
ফোবোস মঙ্গল গ্রহের দুটি প্রাকৃতিক উপগ্রহের একটি। অন্যটির নাম ডেইমোস। দীর্ঘদিন ধরেই এই দুই উপগ্রহের উৎপত্তি নিয়ে বিজ্ঞানীদের মধ্যে নানা প্রশ্ন রয়েছে।
গবেষকদের ধারণা, ফোবোসের মাটি ও পৃষ্ঠের উপাদান বিশ্লেষণের মাধ্যমে উপগ্রহটির উৎপত্তি এবং সৌরজগতের প্রাথমিক বিবর্তন সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া সম্ভব হবে।
বিশেষ করে ফোবোস কীভাবে গঠিত হয়েছিল, তা নিয়ে প্রচলিত বৈজ্ঞানিক ধারণাগুলো যাচাই করার সুযোগ তৈরি করবে এই অভিযান।
পৃথিবীতে ফিরিয়ে আনা নমুনা উন্নত গবেষণাগারে পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে বিশ্লেষণ করতে পারবেন বিজ্ঞানীরা। ফলে দূর থেকে পর্যবেক্ষণের তুলনায় উপগ্রহটির গঠন সম্পর্কে আরও বিস্তারিত ও নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
জাপানের এই অভিযান সফল হলে তা শুধু দেশটির মহাকাশ গবেষণায় নয়, বরং মঙ্গল গ্রহ ও এর উপগ্রহ নিয়ে আন্তর্জাতিক বৈজ্ঞানিক অনুসন্ধানেও একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হয়ে থাকবে।
সূত্র: এনএইচকে, আনাদোলু এজেন্সি ও জিওটিভি নিউজ।