আবুধাবি টেস্টে ব্যাট হাতে ফিফটি ও সেঞ্চুরি, আর উইকেটের পেছনে ৯টি ডিসমিসাল—এক ম্যাচেই অনন্য কীর্তি গড়লেন বাংলাদেশের উইকেটরক্ষক ব্যাটার লিটন কুমার দাস। আফগানিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচের পঞ্চম দিনে ইকরাম আলিখিলকে দুর্দান্ত ক্যাচে ফেরানোর মধ্য দিয়ে নতুন এই রেকর্ড গড়েন তিনি।

এবাদত হোসেনের বলে ব্যাট চালাতে গিয়ে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দেন ইকরাম। শরীর ভাসিয়ে নিজের কাছ থেকে দূরে চলে যাওয়া বলটি দারুণ দক্ষতায় তালুবন্দি করেন লিটন। তাঁর এই ক্যাচে ভাঙে আফগানিস্তানের ৬৬ রানের জুটি এবং ম্যাচে ফেরার সুযোগ পায় বাংলাদেশ।

এই টেস্টের দুই ইনিংসে লিটনের ব্যাট থেকে এসেছে ৫৩ ও ১০২ রান। উইকেটরক্ষক হিসেবে দুই ইনিংস মিলিয়ে তাঁর ডিসমিসাল ৯টি। ক্রিকেটের প্রচলিত পরিসংখ্যান অনুযায়ী, একই টেস্টে দুই ইনিংসে পঞ্চাশোর্ধ রান এবং উইকেটরক্ষক হিসেবে ৯টি ডিসমিসালের এমন সমন্বয় বিরল কীর্তি।

এর আগে ১৯৬৬ সালে জোহানেসবার্গে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্টে দক্ষিণ আফ্রিকার ডেনিস লিন্ডস দুই ইনিংসে ৫০ বা তার বেশি রান করার পাশাপাশি উইকেটরক্ষক হিসেবে ৮টি ডিসমিসাল করেছিলেন। লিটনের কীর্তি সেই নজিরকেও ছাড়িয়ে গেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

জয়ের লড়াইয়ে বাংলাদেশ

বাংলাদেশের দেওয়া ৪৭৯ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে আগের দিন ৩ উইকেটে ১৩২ রান করেছিল আফগানিস্তান। পঞ্চম দিনের খেলা শুরুর আগে জয়ের জন্য তাদের প্রয়োজন ছিল আরও ৩৪৭ রান। অন্যদিকে বাংলাদেশের দরকার ছিল ৭ উইকেট।

আফগান ব্যাটাররা বেশ দৃঢ়তার সঙ্গে বাংলাদেশের বোলারদের মোকাবিলা করছিলেন। মাঝপথে হাশমতউল্লাহ শহীদি পায়ে আঘাত পেয়ে রিটায়ার্ড হার্ট হলেও ব্যাটিংয়ে লড়াই চালিয়ে যায় দলটি।

ইকরাম আলিখিলকে ফিরিয়ে বাংলাদেশের সামনে ম্যাচে নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়। তাঁর বিদায়ের সময় আফগানিস্তানের স্কোর ছিল ২০২ রান, চতুর্থ উইকেটের পতন ঘটে। দ্বিতীয় ইনিংসে তখন পর্যন্ত এবাদত হোসেন ৩টি এবং হাসান মাহমুদ ১টি উইকেট নিয়েছেন।

আফগানিস্তানের সামনে ড্র করার সুযোগ থাকলেও বাংলাদেশের লক্ষ্য ছিল বাকি উইকেটগুলো তুলে নিয়ে জয় নিশ্চিত করা। লিটনের অসাধারণ উইকেটকিপিং তাই ম্যাচের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে বাংলাদেশের জন্য বড় প্রাপ্তি হয়ে ওঠে।