আগামী চার বছরের মধ্যে বাংলাদেশকে পথশিশু ও ভিক্ষুকমুক্ত করার লক্ষ্যে সরকার কাজ করছে বলে জানিয়েছেন মহিলা ও শিশুবিষয়ক এবং সমাজকল্যাণমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন।

বুধবার (৭ অক্টোবর) সকালে শিশু অধিকার দিবস ২০২৬ ও বাংলাদেশ শিশু একাডেমির ৫০ বছরপূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত ‘শিশুর স্বপ্নে ৫০ বছর: অর্জনে অভিজ্ঞতা ও আগামীর বাংলাদেশ’ শীর্ষক সেমিনারে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, শিশুদের যত্ন ও বিকাশে মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন বিভাগ কাজ করছে। পথশিশুদের জন্যও মন্ত্রণালয়ের একটি পৃথক বিভাগ রয়েছে এবং সেটিকে আরও শক্তিশালী করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

পথশিশুদের পুনর্বাসন ও উন্নয়নের বিষয়ে তিনি বলেন, শুধু পড়াশোনার সুযোগ নিশ্চিত করলেই হবে না; শিশুদের মানসিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক বিকাশের দিকেও সমান গুরুত্ব দিতে হবে। সুবিধাবঞ্চিত শিশুদেরও এসব সুযোগের আওতায় আনতে হবে।

জাহিদ হোসেন বলেন, ‘৪ বছরের মধ্যে পথশিশু ও ভিক্ষুকমুক্ত বাংলাদেশ করার জন্য আমরা এগিয়ে যাচ্ছি। এ জন্য আমাদের আলাদা প্রজেক্ট আছে। এই লক্ষ্যে আমরা সবার সহযোগিতা চাই। আর এটার জন্য বিপুল বিনিয়োগের চেয়ে মানসিকতার প্রয়োজন বেশি।’

তিনি বলেন, বাংলাদেশ শিশু একাডেমির মাধ্যমে শুধু সুবিধাপ্রাপ্ত শিশুদের নয়, সুবিধাবঞ্চিত শিশুদেরও একই ছাতার নিচে নিয়ে আসতে চায় সরকার। শিশুদের সার্বিক বিকাশে মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন বিভাগ ও বাংলাদেশ শিশু একাডেমি যৌথভাবে কাজ করছে।

শিশুদের জন্য এমন পরিবেশ তৈরির ওপর গুরুত্ব দিয়ে মন্ত্রী বলেন, কোনো শিশুই যেন নিজেকে পিছিয়ে পড়া মনে না করে। রাস্তায় থাকা শিশু এবং পরিবারের শিশু—সবার প্রশিক্ষণ, শিক্ষা ও বিকাশের ক্ষেত্রে সমান গুরুত্ব দিতে হবে।

তিনি বলেন, ‘পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠী’ নামে যে শব্দটি এখন ব্যবহার করা হয়, ভবিষ্যতে যেন এই শব্দটি আর ব্যবহার করতে না হয়—সরকার এমন একটি বাংলাদেশ গড়তে চায়।

পাহাড় ও সমতলের মানুষসহ ধর্ম, বর্ণ ও জাতি নির্বিশেষে সবার জন্য বাসযোগ্য বাংলাদেশ গড়ে তোলার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়ে জাহিদ হোসেন বলেন, শিশুদের ভবিষ্যৎ গড়ে তোলার জন্য নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি। শিশু নির্যাতন ও সহিংসতার মতো ঘটনা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এ জন্য শুধু আইন থাকলেই হবে না, সামাজিকভাবেও মানুষকে সচেতন ও সম্পৃক্ত করতে হবে।

তিনি বলেন, শিশুদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা শুধু শিশু একাডেমি বা মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব নয়। এটি দেশের সব শ্রেণি-পেশার মানুষের সম্মিলিত দায়িত্ব। সবাইকে একসঙ্গে কাজ করে শিশু থেকে প্রবীণ—সবার বসবাসের উপযোগী বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে।

সেমিনারে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি হাসান হাফিজ, মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি সেলিমা রহমান, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এ এস এম আমানুল্লাহ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক সালমা আক্তার এবং শিশু একাডেমির মহাপরিচালক আরজু আরা বেগমসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।