আর্জেন্টিনার নীল-সাদা জার্সিতে লিওনেল মেসির শেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচ ঘিরে আবেগে ভেসেছেন বাংলাদেশের ফুটবলপ্রেমীরা। বেনিনের বিপক্ষে ৩-০ গোলের জয়ে গোল করার পাশাপাশি দুটি গোলে অবদান রেখে স্মরণীয় পারফরম্যান্সে আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের শেষ অধ্যায় রাঙিয়েছেন আর্জেন্টাইন মহাতারকা।
মেসির বিদায়ের আবেগ ছড়িয়ে পড়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও। প্রিয় তারকাকে নিয়ে নিজেদের অনুভূতি প্রকাশ করেছেন দেশের শোবিজ অঙ্গনের তারকারা। তাদের পোস্টে উঠে এসেছে মেসিকে ঘিরে দীর্ঘদিনের স্মৃতি, মুগ্ধতা ও বিদায়ের বেদনা।
ঢাকাই চলচ্চিত্রের অভিনেত্রী পূর্ণিমা মেসির শেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচ নিয়ে নিজের আবেগ প্রকাশ করেছেন। জীবনের নানা কষ্টের সঙ্গে আর্জেন্টিনার জার্সিতে মেসিকে শেষবার দেখার বেদনাও যেন মিশে গেছে—এমন অনুভূতি প্রকাশ করেছেন তিনি।
চিত্রনায়িকা পরীমনি মেসির বিদায়কে দেখেছেন একটি যুগের সমাপ্তি হিসেবে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া দীর্ঘ পোস্টে তিনি বলেন, এই ম্যাচকে শুধুই আরেকটি ফুটবল ম্যাচ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই; এটি মেসিকে ঘিরে তৈরি হওয়া দীর্ঘ এক অধ্যায়ের শেষ মুহূর্ত।
পরীমনি লেখেন, নীল-সাদা জার্সি মেসির স্বপ্ন ও গর্বের প্রতীক হয়ে উঠেছিল। সেই জার্সিতে তাকে শেষবার দেখার মুহূর্তটি তাই ছিল অত্যন্ত আবেগঘন। বছরের পর বছর মেসির ম্যাচ দেখতে রাত জাগা, গোলের পর উচ্ছ্বাস কিংবা দলের হারে মন খারাপ—সব স্মৃতিই বিদায়ের দিনে যেন একসঙ্গে ফিরে এসেছে।
২০২২ সালের বিশ্বকাপে মেসির হাতে বিশ্বকাপ ট্রফি ওঠার দৃশ্যও স্মরণ করেন পরীমনি। তার মতে, সেই মুহূর্তের স্মৃতি কখনো মুছে যাওয়ার নয়। শেষ ম্যাচের ফলাফলও তাই জয়-পরাজয়ের হিসাব ছাড়িয়ে গেছে। শেষবারের মতো মাঠে মেসিকে দেখার অনুভূতিই হয়ে উঠেছে সবচেয়ে বড় বিষয়।
বিদায় নিলেও ফুটবলের ইতিহাসে মেসির অবস্থান অমলিন থাকবে বলেও উল্লেখ করেন পরীমনি। সময়ের সঙ্গে জার্সির রং কিংবা প্রজন্ম বদলে গেলেও ১০ নম্বর জার্সিতে মেসির তৈরি করা স্মরণীয় অধ্যায় মুছে যাওয়ার নয়।
মেসির আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে বিদায়ের মধ্য দিয়ে একটি বর্ণিল অধ্যায়ের সমাপ্তি দেখছেন তার ভক্তরা। আর পূর্ণিমা-পরীমনির মতো তারকাদের আবেগঘন প্রতিক্রিয়া আবারও মনে করিয়ে দিচ্ছে—ফুটবলের মাঠ ছাড়িয়ে মেসি কতটা গভীরভাবে জায়গা করে নিয়েছেন মানুষের হৃদয়ে।