ইসলামে সুদ কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে, ‘আল্লাহ ব্যবসাকে হালাল করেছেন এবং সুদকে হারাম করেছেন।’ (সুরা আল-বাকারা, আয়াত: ২৭৫)
ব্যাংক হিসাবের সঙ্গে অনিচ্ছাকৃতভাবে সুদের অর্থ যুক্ত হলে তা নিজের ভোগে ব্যবহার করা যাবে কি না, কিংবা দরিদ্র আত্মীয়কে দেওয়া যাবে কি না—এ নিয়ে অনেকের প্রশ্ন রয়েছে। ফিকহবিদদের মতে, সুদের অর্থ নিজে ভোগ না করে তা দরিদ্র ও অভাবী মানুষের মধ্যে দিয়ে দেওয়া যেতে পারে। তবে এটি সাধারণ সদকা হিসেবে গণ্য হবে না; বরং হারাম অর্থ থেকে নিজেকে মুক্ত করার একটি পদ্ধতি হিসেবে বিবেচিত হবে।
দরিদ্র আত্মীয়কে দেওয়া যাবে?
হানাফি ফিকহের একাধিক ফতোয়া অনুযায়ী, কোনো আত্মীয় যদি প্রকৃতপক্ষে দরিদ্র হন এবং জাকাত গ্রহণের উপযুক্ত হন, তাহলে তাকে সুদের অর্থ দেওয়া যেতে পারে। তবে দেওয়ার সময় সওয়াবের নিয়ত করা যাবে না।
অর্থাৎ দরিদ্র ভাই-বোন, চাচা, ফুফু, মামা কিংবা অন্য কোনো আত্মীয়ের বাস্তব প্রয়োজন থাকলে তাকে এই অর্থ দিয়ে সহায়তা করা যেতে পারে। শুধু আত্মীয় হলেই হবে না; তাকে সত্যিই অভাবী হতে হবে।
কীভাবে দেওয়া উচিত?
সুদের অর্থ দেওয়ার সময় নিয়ত হওয়া উচিত—হারাম অর্থ নিজের সম্পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া এবং তা একজন অভাবী মানুষের প্রয়োজন পূরণে পৌঁছে দেওয়া। সদকার সওয়াব অর্জনের নিয়ত করা উচিত নয়।
তবে যার ভরণপোষণের দায়িত্ব শরিয়ত অনুযায়ী নিজের ওপর বর্তায়, তার ক্ষেত্রে নিজের সেই দায়িত্ব পালনের পরিবর্তে সুদের অর্থ ব্যবহার করা ঠিক হবে না। এতে নিজের ওপর থাকা আর্থিক দায়িত্ব এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে।
আত্মীয়ের প্রয়োজনও বিবেচনায় রাখতে হবে
দরিদ্র আত্মীয়ের চিকিৎসা, খাবার, পোশাক, শিক্ষা কিংবা জরুরি প্রয়োজন মেটাতে এ অর্থ দেওয়া যেতে পারে। তবে বিলাসিতা বা অপ্রয়োজনীয় কাজে ব্যয়ের জন্য এমন অর্থ দেওয়া সমীচীন নয়।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ইচ্ছাকৃতভাবে সুদভিত্তিক লেনদেন বা বিনিয়োগ চালু রাখা নয়। অনিচ্ছাকৃতভাবে সুদের অর্থ হাতে এলে তা নিজের সম্পদ থেকে আলাদা করে দরিদ্র-অভাবীদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করা উচিত।
নোট: এটি সাধারণ ধর্মীয় তথ্য। ব্যক্তিগত পরিস্থিতিতে—বিশেষ করে ভরণপোষণের দায়িত্ব, জাকাতের যোগ্যতা বা ব্যাংকিংয়ের ধরন—ভিন্ন হলে নির্ভরযোগ্য আলেম/মুফতির কাছ থেকে নির্দিষ্ট ফতোয়া নেওয়া উত্তম।