মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানকে জামায়াতে ইসলামীর নেতা হিসেবে উল্লেখ করে জনগণকে বিভ্রান্ত করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন দলটির নায়েবে আমির ও রংপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য এটিএম আজহারুল ইসলাম। তার দাবি, আখতারুজ্জামান জামায়াতের কোনো নেতা নন; তিনি দলের প্রাথমিক সদস্য মাত্র।

শনিবার (৩ অক্টোবর) দুপুরে রংপুর নগরীর শাপলা চত্বরে জামায়াতের দলীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় রংপুর বিভাগের জামায়াতের ১৪ জন সংসদ সদস্যসহ স্থানীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

আজহারুল ইসলাম বলেন, আখতারুজ্জামানকে বিমানবন্দরে প্রতিবাদ করার কারণে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। কেন তিনি প্রতিবাদ করেছিলেন বা তার অপরাধ কী ছিল—তা তদন্তের আগেই মামলা করে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

তিনি বলেন, ‘জামায়াতের কোনো নেতা কিছু বললে তা পত্রিকায় ছাপানো হয় না। কিন্তু এমন কোনো কথা এলে, যেটা দিয়ে জনগণকে বিভ্রান্ত করা যাবে, তখন তাকে নেতা বানিয়ে দেওয়া হয়।’

আখতারুজ্জামানের দলীয় পরিচয় প্রসঙ্গে আজহারুল ইসলাম বলেন, জামায়াতে প্রাথমিক সদস্য হওয়ার পর পর্যায়ক্রমে কর্মী, সদস্য এবং পরে নেতৃত্বের পর্যায়ে যাওয়ার সুযোগ রয়েছে। তার ভাষ্য, আখতারুজ্জামান বর্তমানে ‘সিম্পল’ সদস্য বা প্রাথমিক সদস্য পর্যায়ে রয়েছেন।

গ্রেপ্তারের নিন্দা

মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানের গ্রেপ্তারের নিন্দা জানিয়ে আজহারুল ইসলাম অভিযোগ করেন, সরকার সমস্যা সমাধানের পরিবর্তে আইনকে ব্যবহার করে বিরোধী দলকে দমনের পথে যাচ্ছে।

তিনি বলেন, আইনগত প্রক্রিয়ার নামে বিরোধী দলকে দমন করা হলে তা সরকারের জন্য সুখকর হবে না।

বিএনপির উদ্দেশে তিনি বলেন, জেল-জুলুমের মাধ্যমে বিরোধী দলকে দমন করা সম্ভব হবে—এমন ধারণা থাকলে তারা ভুল করছে।

যে মামলায় গ্রেপ্তার

শুক্রবার (২ অক্টোবর) বিকেলে রাজধানীর ক্যান্টনমেন্ট এলাকার বাসা থেকে মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

এর আগে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে লাগেজ ও ট্রলি সংকটকে কেন্দ্র করে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি, সরকারি কাজে বাধা এবং দায়িত্ব পালনরত এক নিরাপত্তা কর্মকর্তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার অভিযোগে বিমানবন্দর থানায় তার বিরুদ্ধে মামলা করা হয়।

মামলার বাদী বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) নিরাপত্তা কর্মকর্তা শাহরিয়ার আলম সজিব। পরে আদালত আখতারুজ্জামানের এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

তবে তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি। বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে তাকে জামায়াতে ইসলামীর নেতা ও সাবেক সংসদ সদস্য হিসেবে উল্লেখ করা হলেও, আজহারুল ইসলাম দাবি করেছেন তিনি দলের প্রাথমিক সদস্য মাত্র।