সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়মের আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে করা মামলায় নজরুলের গাড়িচালক ও মরিয়মের মামা ওবায়দুর রহমানকে চার দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছেন আদালত।

বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. রিপন হোসেন তদন্ত কর্মকর্তার পাঁচ দিনের রিমান্ড আবেদনের শুনানি শেষে চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী হারুন অর রশিদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এদিন আসামিকে আদালতে হাজির করে রিমান্ডের আবেদন করা হয়। রাষ্ট্রপক্ষে আইনজীবী ওমর ফারুক ফারুকী রিমান্ডের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরে বলেন, মরিয়ম আসলেই আত্মহত্যা করেছেন, নাকি তাকে হত্যা করা হয়েছে—তা তদন্তের স্বার্থে ওবায়দুরকে জিজ্ঞাসাবাদ প্রয়োজন।

শুনানির একপর্যায়ে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ওবায়দুরকে জামায়াতের সদস্য বলে উল্লেখ করলে তিনি আদালতকে বলেন, ‘আমি কোনো রাজনীতির সঙ্গে জড়িত না।’ আসামিপক্ষ রিমান্ড বাতিল করে জামিনের আবেদন জানায়। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত চার দিনের রিমান্ডের আদেশ দেন।

এর আগে বুধবার ওবায়দুরকে কারাগারে পাঠানো হয়েছিল।

রিমান্ড আবেদনে যা বলা হয়েছে

তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনে বলা হয়, ৩৮ বছর বয়সী ওবায়দুর রহমান মরিয়মের মামা এবং সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের গাড়িচালক। নজরুল ইসলামের সঙ্গে মরিয়মের পরিবারের ঘনিষ্ঠ যোগাযোগের কারণে ওবায়দুরের সঙ্গেও তার বিভিন্ন সময়ে কথাবার্তা হতো।

তদন্তে মরিয়মের সঙ্গে নজরুল ইসলামের নিয়মিত মুঠোফোনে যোগাযোগ এবং বিভিন্ন স্থানে যাতায়াতের তথ্য পাওয়া গেছে বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়। ন্যাম ভবনের বাসায়ও নজরুলের যাতায়াত ছিল বলে দাবি করা হয়েছে।

রিমান্ড আবেদনে আরও বলা হয়, মরিয়মের আত্মহত্যার ঘটনায় ওবায়দুরের সম্পৃক্ততার বিষয়ে স্থানীয় সাক্ষ্য-প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে। মরিয়মের বিয়ের আগে থেকেই নজরুল ইসলামের সঙ্গে বিভিন্ন বিষয়ে যুক্ত থেকে ওবায়দুর বিয়ে-সংক্রান্ত কার্যক্রমেও ভূমিকা রেখেছিলেন বলে তদন্তে জানা গেছে।

পুলিশের আবেদনে মরিয়ম আত্মহত্যায় প্ররোচিত হয়েছেন কি না, তাকে কোনো ধরনের উসকানি, মানসিক চাপ, ভয়ভীতি বা সহায়তা করা হয়েছিল কি না—এসব বিষয়ে ওবায়দুরকে জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজনীয়তার কথা বলা হয়েছে। পাশাপাশি পলাতক আসামিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার এবং মামলার অজ্ঞাতনামা আসামিদের ভূমিকা উদ্‌ঘাটনের জন্যও রিমান্ড চাওয়া হয়।

যেভাবে শুরু হয় মামলা

গত ২০ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় সংসদ ভবনের বিপরীতে ন্যাম ভবনের একটি ফ্ল্যাট থেকে মরিয়মের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ওই রাতে সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম ও তার প্রথম স্ত্রী মাকছুদা ইসলামকে হেফাজতে নেওয়া হয়।

পরে মরিয়মের বাবা এস এম মাসুম বিল্লাহ আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে গাজী নজরুল ইসলাম, তার স্ত্রী মাকছুদা ইসলাম ও মরিয়মের মামা ওবায়দুর রহমানের বিরুদ্ধে মামলা করেন।

পরদিন আদালত গাজী নজরুল ইসলামকে চার দিন এবং মাকছুদা বেগমকে এক দিনের রিমান্ডে নেওয়ার অনুমতি দেন। পরে মামলার তদন্তভার গোয়েন্দা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। রিমান্ড শেষে মাকছুদা বেগমকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে এবং নজরুল ইসলাম চার দিনের রিমান্ডে রয়েছেন।

নোট: আত্মহত্যায় প্ররোচনা, হত্যা বা অন্য কোনো সম্পৃক্ততার বিষয়গুলো বর্তমানে মামলার অভিযোগ ও তদন্তের অংশ; আদালতের চূড়ান্ত রায়ে প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত এগুলোকে অভিযোগ হিসেবেই দেখা হচ্ছে।