দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়মকে আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে করা মামলায় দুই দফায় মোট আট দিনের রিমান্ড শেষে সংসদ সদস্য জি এম নজরুল ইসলাম ওরফে গাজী নজরুলের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত।
সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) বিকেলে শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ এহসানুল ইসলামের আদালত এ আদেশ দেন।
এদিন রিমান্ড শেষে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবির তেজগাঁও জোনাল টিমের পুলিশ পরিদর্শক (নিরস্ত্র) মোহাম্মদ সালাউদ্দিন গাজী নজরুলকে কারাগারে পাঠানোর আবেদন করেন। অন্যদিকে আসামিপক্ষে আইনজীবী মাহবুবুল ইসলাম জামিনের আবেদন করেন। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত জামিন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
এর আগে ২৪ সেপ্টেম্বর প্রথম দফার চার দিনের রিমান্ড শেষে গাজী নজরুলকে আদালতে হাজির করা হলে ডিবি আবারও সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করে। শুনানি শেষে আদালত চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
মামলার সূত্রে জানা যায়, গত ২০ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের ন্যাম ভবনের ২০৩ নম্বর ফ্ল্যাট থেকে গাজী নজরুলের দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম খাতুনের (১৯) ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ওই সময় কক্ষটির দরজা ভেতর থেকে বন্ধ ছিল। পরে দরজা ভেঙে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে। ঘটনাস্থল থেকে কয়েকটি চিরকুটও উদ্ধারের কথা জানানো হয়।
ঘটনার পরদিন মরিয়মের বাবা এস এম মাসুম বিল্লাহ বাদী হয়ে গাজী নজরুল ইসলাম, তার প্রথম স্ত্রী মাকছুদা ইসলাম ও মরিয়মের মামা ওবায়দুর রহমানকে আসামি করে আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলা করেন। পরে মামলাটির তদন্তভার ডিবির কাছে হস্তান্তর করা হয়।
মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে মরিয়মকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের মাধ্যমে আত্মহত্যায় প্ররোচনা দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে। তবে গাজী নজরুল অভিযোগ অস্বীকার করে এর আগে সাংবাদিকদের বলেছিলেন, তাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ মিথ্যা এবং মরিয়ম নিজেই আত্মহত্যা করেছেন।
এ মামলায় গাজী নজরুলের প্রথম স্ত্রী মাকছুদা ইসলামকে এক দিনের রিমান্ড শেষে কারাগারে পাঠানো হয়। একই মামলায় মরিয়মের মামা ও গাজী নজরুলের গাড়িচালক ওবায়দুর রহমানকেও কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন আদালত।