যে মানুষের কাছে কোনো নবী-রাসুলের দাওয়াত পৌঁছেনি, এমনকি ইসলামের বাণী ও কোরআনের নির্দেশনা সম্পর্কেও জানার সুযোগ হয়নি—হাশরের ময়দানে তাদের বিচার কীভাবে হবে? ইসলামী শরিয়তের দৃষ্টিতে এ বিষয়ে ব্যাখ্যা দিয়েছেন প্রখ্যাত আলেম ও ইসলামী চিন্তাবিদ শায়খ আহমাদুল্লাহ।

সম্প্রতি এক জুমার বয়ানে তিনি বলেন, যাদের কাছে দ্বীনের সুনির্দিষ্ট দাওয়াত বা নির্দেশনা পৌঁছেনি, তাদের প্রতি আল্লাহ তাআলা কোনো অন্যায় বিচার করবেন না। কারণ কোনো মানুষের কাছে যে বিধান পৌঁছায়নি, সে বিষয়ে তাকে জবাবদিহির আওতায় আনা হবে না।

তিনি ব্যাখ্যা করেন, এমন ব্যক্তিদের নামাজ, রোজা কিংবা ইসলামের অন্যান্য সুনির্দিষ্ট বিধিবিধান পালনের বিষয়ে প্রশ্ন করা হবে না—কারণ এসব বিধানের দাওয়াত তাদের কাছে পৌঁছেনি। তবে এর অর্থ এই নয় যে তারা সম্পূর্ণ জবাবদিহিমুক্ত থাকবে।

আহমাদুল্লাহর বক্তব্য অনুযায়ী, প্রত্যেক মানুষের মধ্যে জন্মগতভাবে একটি ‘ফিতরাত’ বা সহজাত বিবেক-বুদ্ধি রয়েছে। ইসলামের দাওয়াত না পাওয়া মানুষের ক্ষেত্রেও এই ফিতরাতের ভিত্তিতে কিছু মৌলিক বিষয় বিবেচিত হতে পারে।

এর মধ্যে রয়েছে—

তাওহিদ ও সৃষ্টিকর্তার স্বীকৃতি:
বিশাল সৃষ্টিজগত, আকাশ-জমিন এবং প্রকৃতির শৃঙ্খলা দেখে একজন মানুষ একক সৃষ্টিকর্তার অস্তিত্ব উপলব্ধি করার চেষ্টা করেছে কি না—এ বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ।

মানবিক ন্যায়বিচার ও নৈতিকতা:
অন্যের ওপর জুলুম, অত্যাচার বা অবিচার করেছে কি না এবং মানুষের সঙ্গে ন্যায়সংগত আচরণ করেছে কি না—এসব বিষয়ও তার জবাবদিহির অংশ হতে পারে।

তিনি আরও বলেন, আধুনিক প্রযুক্তির যুগে মানুষের কর্মকাণ্ডের সূক্ষ্মাতিসূক্ষ্ম বিষয়ও সিসি ক্যামেরা ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মাধ্যমে শনাক্ত করা সম্ভব হচ্ছে। অথচ এসব প্রযুক্তির স্রষ্টাও শেষ পর্যন্ত আল্লাহর সৃষ্টি। তাই কেয়ামতের ময়দানে আল্লাহর বিচার কতটা নিখুঁত হবে, তা মানুষের সীমিত জ্ঞান দিয়ে পুরোপুরি অনুধাবন করা সম্ভব নয়।

আহমাদুল্লাহর বক্তব্যের সারকথা হলো, যাদের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছেনি, তাদের বিচার হবে তাদের প্রাপ্ত সুযোগ, সহজাত বিবেক ও নৈতিক দায়বদ্ধতার আলোকে। আল্লাহ তাআলা কারও প্রতি বিন্দুমাত্র জুলুম করবেন না এবং হাশরের ময়দানে তাঁর বিচার হবে পরিপূর্ণ ন্যায়বিচারের ভিত্তিতে।

জুমার বয়ানের ভিডিও