রাজধানীর মিরপুর-১-এর রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন চিকিৎসক ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সাবেক নেত্রী ডা. তাসনিম জারা। একই সঙ্গে ধ্বংসস্তূপের মধ্যেও স্বাস্থ্যকর্মীরা শিশুদের টিকাদানসহ জরুরি সেবা চালিয়ে যাওয়ায় তাদের প্রশংসা করেছেন তিনি।
রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ভাঙচুরের পর স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় এসব কথা বলেন তাসনিম জারা।
তিনি বলেন, রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় মানুষের আস্থার জায়গা হিসেবে স্বাস্থ্যসেবা দিয়ে আসছে। এখানে শিশুদের টিকাদানের পাশাপাশি প্রসূতি ও গর্ভবতী নারীদের বিভিন্ন সেবাও দেওয়া হতো। ভবন ধ্বংসের পরও মায়েরা রোদে দাঁড়িয়ে সন্তানদের টিকা দিতে নিয়ে আসছেন, যা কেন্দ্রটির প্রতি মানুষের আস্থার প্রতিফলন।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তুলে তাসনিম জারা বলেন, কয়েক ঘণ্টা ধরে ভাঙচুর চলার সময় পুলিশকে জানানো হলেও তা ঠেকানো গেল না কেন—এ বিষয়ে জবাবদিহি প্রয়োজন। তাঁর প্রশ্ন, এমন পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষ কীভাবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর আস্থা রাখবে।
তাসনিম জারা আরও বলেন, ঘটনাটিকে শুধু বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। তাঁর দাবি, দেশের বিভিন্ন স্থানে জমি, বাড়ি ও দোকান দখলের অভিযোগ রয়েছে এবং স্থানীয় পর্যায়ে রাজনৈতিক পরিচয়ধারী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধেও অভিযোগ উঠছে। এসব অভিযোগের বিষয়ে যথাযথ তদন্ত প্রয়োজন বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
স্বাস্থ্যসেবার ক্ষয়ক্ষতি তুলে ধরে তিনি বলেন, ভাঙচুরের ঘটনায় শিশুদের টিকাদানের রেজিস্টার, দুটি ট্যাব ও অফিসের ফোন হারিয়ে গেছে। ফলে আগের মতো রেজিস্টার দেখে অভিভাবকদের ফোন করে টিকার পরবর্তী সময় জানানো সম্ভব হচ্ছে না। স্বাস্থ্যকর্মীরা এখন ব্যক্তিগত মোবাইল ফোন ব্যবহার করে সীমিতভাবে যোগাযোগ করছেন।
তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, কোনো অভিভাবক টিকা কার্ড হারিয়ে ফেললে শিশুর নিয়মিত টিকাদান ব্যাহত হতে পারে। এতে ভবিষ্যতে সংক্রামক রোগের ঝুঁকি বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাই স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে দ্রুত নতুন করে রেজিস্টার তৈরি এবং শিশুদের টিকাদানের তথ্য সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
তাসনিম জারা বলেন, আগে শিশুরা ছায়াযুক্ত কক্ষে বসে টিকা নিলেও এখন খোলা জায়গায় রোদে অপেক্ষা করতে হচ্ছে। এতে অনেক অভিভাবক ভিড়ের কারণে ফিরে যাচ্ছেন। পাশাপাশি গর্ভবতী নারীদের আল্ট্রাসনোগ্রাফি, নিয়মিত চেকআপ ও কাউন্সেলিংয়ের মতো সেবাও বন্ধ রয়েছে।
তাঁর ভাষ্য, স্বাস্থ্যকেন্দ্রটির কিছু কক্ষ এখনো ব্যবহারযোগ্য। প্রশাসন দ্রুত সেগুলো খুলে দিলে অন্তত মাতৃস্বাস্থ্যসেবার কিছু কার্যক্রম পুনরায় চালু করা সম্ভব। একই সঙ্গে স্বাস্থ্যকর্মীদের জন্য ওয়াশরুম ও খাবারের মতো ন্যূনতম সুবিধা নিশ্চিত করারও আহ্বান জানান তিনি।
এদিকে রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় এখন পর্যন্ত নয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ডিএমপি জানিয়েছে, লুট হওয়া দুই ট্রাক মালামালও উদ্ধার করা হয়েছে।
এর আগে ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমদ জানিয়েছিলেন, এমন ঘটনা প্রতিরোধ করা পুলিশের দায়িত্বের মধ্যেই পড়ে এবং তদন্তে কোনো পুলিশ সদস্যের গাফিলতি পাওয়া গেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।