কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় চাঁদাবাজি কিংবা সম্পত্তি দখলের অভিযোগ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। ঢাকা-১৭ আসনে এমন ঘটনা ঘটানোর ‘দুঃসাহস’ কারা দেখাতে পারে, সেই প্রশ্নও তুলেছেন তিনি।

রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে নাহিদ ইসলাম এসব কথা বলেন।

নাহিদ ইসলাম বলেন, রাতের আঁধারে জুলাইয়ের রাজপথের সহযোদ্ধা সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিও ভাঙচুর করা হয়েছে। তার ভাষ্য, ভাঙচুর ও লুটপাটের পেছনে দুটি অভিযোগ সামনে এসেছে—চাঁদা না দেওয়া অথবা সম্পত্তি দখল।

তিনি প্রশ্ন তোলেন, ঢাকা-১৭ আসনে চাঁদাবাজি কিংবা সম্পত্তি দখলের মতো কর্মকাণ্ড করার দুঃসাহস কারা দেখাতে পারে।

কোনো স্থাপনা অবৈধ হলে বা কেউ দখল করে রাখলে আইন ও আদালতের মাধ্যমে ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন নাহিদ ইসলাম। তার অভিযোগ, আইনি পথ অনুসরণ না করে ক্ষমতাসীনদের এমন কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে কী বার্তা দেওয়া হচ্ছে, সেটিও প্রশ্নের বিষয়।

পোস্টে বিএনপির বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও দখলদারিত্বের অভিযোগও তোলেন নাহিদ ইসলাম। তিনি দাবি করেন, ৫ আগস্টের পর বিএনপির লোকজন সারাদেশে চাঁদাবাজি ও দখলবাজির নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে এবং এর পরিমাণ ও পরিধি বেড়েছে।

এ ঘটনায় সরকারের কাছে বিচার চাওয়াকে ‘অর্থহীন’ উল্লেখ করে নাহিদ ইসলাম বলেন, তারা আশা করেন দ্রুত চাঁদাবাজদের কবল থেকে দেশ মুক্ত হবে।

তবে পুলিশের বক্তব্য নাহিদ ইসলামের অভিযোগের সঙ্গে ভিন্ন। ডিএমপি বলছে, প্রাথমিকভাবে ঘটনাটির সঙ্গে চাঁদাবাজির কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, নিউ গিনি প্রপার্টিজ লিমিটেডের সঙ্গে পাশের জমির মালিকের জমি নিয়ে বিরোধের জেরেই হামলা হয়ে থাকতে পারে। এ ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

ডিএমপির পক্ষ থেকে আরও বলা হয়েছে, তদন্তের পর হামলার প্রকৃত কারণ ও জড়িতদের বিষয়ে বিস্তারিত জানা যাবে। অর্থাৎ, ঘটনাটির কারণ নিয়ে রাজনৈতিক বক্তব্য ও পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে ভিন্ন ব্যাখ্যা রয়েছে।

এর আগে শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) রাতে ইসিবি চত্বরের নিউ গিনি প্রপার্টিজে সালমান মুক্তাদিরের ‘ব্রাউনফিশ’ স্টুডিওতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। একই প্রকল্পের অফিস ও আশপাশের কয়েকটি স্থাপনাতেও হামলার খবর পাওয়া যায়।