রাজধানীর মিরপুর-১-এর রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে মধ্যরাতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় গ্রেপ্তার চারজনকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত।

কারাগারে পাঠানো আসামিরা হলেন—মো. সোহেল (২২), মো. জুয়েল (২৩), মো. জিহাদ হাসান (২১) ও মো. রাবিব (২০)।

শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) বিকেলে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ সিদ্দিক আজাদ তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। সংশ্লিষ্ট শাহ আলী থানার প্রসিকিউশন সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

এর আগে মামলার তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত চার আসামিকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শাহ আলী থানার উপপরিদর্শক মো. আতোয়ার রহমান।

মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, শুক্রবার দিবাগত রাত ১২টা ৫ মিনিটের দিকে একদল লোক হ্যামার, লাঠি ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে প্রবেশ করে। তারা প্রাচীর টপকে ভেতরে ঢুকে দায়িত্ব পালনরত দুই নৈশপ্রহরী আন্দ্রিয় সরকার (৪৩) ও মো. আব্দুল হাইকে (৬৩) মারধর করে বেঁধে রাখে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

পরে হামলাকারীরা হ্যামার দিয়ে প্রধান ফটক ভেঙে একটি ভেকু নিয়ে প্রতিষ্ঠানের ভেতরে প্রবেশ করে। এরপর বিভিন্ন সেমিপাকা ঘর, চিকিৎসা ও পরিবার পরিকল্পনা সেবা কেন্দ্র, রেজিস্ট্রেশন শাখা এবং আল্ট্রাসনোগ্রাম, টিকাদান ও ল্যাবরেটরি কক্ষের দরজা-জানালা ও সরঞ্জাম ভাঙচুর করা হয়।

মামলার অভিযোগে ভাঙচুরে প্রায় ১ কোটি ৯ লাখ টাকার ক্ষতির কথা উল্লেখ করা হয়েছে। একই সঙ্গে বিভিন্ন ওষুধ ও সামগ্রী, আল্ট্রাসনোগ্রাম মেশিন, জেনারেটর, কম্পিউটার, প্রিন্টার, ফ্রিজ, এসিসহ বিভিন্ন মালামাল লুটের অভিযোগ রয়েছে।

প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে অবশ্য হামলা ও লুটপাটে মোট প্রায় দেড় কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। লুট হওয়া সামগ্রীর মধ্যে সরকারি ইপিআই টিকার সামগ্রী, টিকাদানের রেজিস্টার ও নথি, পরিবার পরিকল্পনার উপকরণ, ওষুধ ও ভ্যাকসিন এবং নগদ অর্থও রয়েছে বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ ঘটনায় রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারের নির্বাহী পরিচালক ডা. নাসরিন আখতার শাহ আলী থানায় মামলা করেন। মামলায় মো. হানিফ মিয়াসহ অজ্ঞাতনামা ২০০ থেকে ২৫০ জনকে আসামি করা হয়েছে।

পুলিশের দাবি, গ্রেপ্তার চারজনকে জিজ্ঞাসাবাদে তারা ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে। অর্থের বিনিময়ে হামলায় অংশ নেওয়ার বিষয়েও তথ্য পাওয়া গেছে বলে তদন্ত কর্মকর্তা আদালতকে জানিয়েছেন। তবে আসামিরা শাহ আলী থানার এলাকার বাসিন্দা না হওয়ায় তাদের নাম-ঠিকানা তাৎক্ষণিকভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি বলেও আদালতকে জানানো হয়।

পুলিশ আরও দাবি করেছে, প্রাথমিক তদন্তে চারজনের বিরুদ্ধে ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার তথ্য-প্রমাণ পাওয়া গেছে। তারা জামিনে মুক্তি পেলে তদন্তে বিঘ্ন সৃষ্টি ও পলাতক হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এদিকে পুলিশের সিডিএমএস ও থানার রেকর্ড যাচাই করে দেখা গেছে, গ্রেপ্তার মো. জুয়েলের বিরুদ্ধে ২০২৩ সালের একটি মাদক মামলা রয়েছে।