রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) ঢাকার মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ শাহজাহান কবিরের আদালত এ দিন ধার্য করেন। নির্ধারিত সময়ে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে না পারায় দুর্নীতি দমন কমিশনকে (দুদক) নতুন সময় দেওয়া হয়েছে।
মামলার আসামিদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক মন্ত্রী আমির হোসেন আমু, তোফায়েল আহমেদ, খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ওবায়দুল কাদের, আনিসুল হক, সাবেক প্রতিমন্ত্রী এম এ মান্নান, সাবেক সচিব এম এ এন ছিদ্দিক, অতিরিক্ত সচিব মো. ফারুক জলিল, উপসচিব মোহাম্মদ শফিকুল করিমসহ সরকারি কর্মকর্তা ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা।
দুদকের মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, ২০১৬ সালে কম্পিউটার নেটওয়ার্ক সিস্টেমস (সিএনএস) লিমিটেডকে একক উৎসভিত্তিক দরপত্র পদ্ধতিতে মেঘনা-গোমতী সেতুর টোল আদায়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়। অভিযোগে বলা হয়েছে, এর আগে চলমান একটি বৈধ টেন্ডার প্রক্রিয়া বাতিল করে প্রতিযোগিতামূলক প্রক্রিয়া ছাড়াই সিএনএসের সঙ্গে চুক্তি করা হয়।
মামলার অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, চুক্তি অনুযায়ী নির্দিষ্ট অর্থের পরিবর্তে আদায়কৃত মোট টোলের ১৭ দশমিক ৭৫ শতাংশ হারে সিএনএসকে সার্ভিস চার্জ দেওয়া হয়। এভাবে প্রতিষ্ঠানটি প্রায় ৪৮৯ কোটি টাকা বিল হিসেবে গ্রহণ করে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
দুদকের হিসাব অনুযায়ী, আগের টোল ব্যবস্থাপনা এবং পরবর্তী একটি চুক্তির ব্যয়ের সঙ্গে তুলনা করে সিএনএসকে দেওয়া চুক্তির কারণে সরকারের প্রায় ৩০৯ কোটি টাকা আর্থিক ক্ষতি হয়েছে বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে।
দুদক ২০২৫ সালের ১২ অক্টোবর শেখ হাসিনাসহ ১৭ জনের বিরুদ্ধে মামলাটি করে। মামলায় দণ্ডবিধির বিভিন্ন ধারা এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭-এর ৫(২) ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।
তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য এর আগে ২০ সেপ্টেম্বর দিন নির্ধারিত ছিল। তবে দুদক প্রতিবেদন জমা না দেওয়ায় আদালত নতুন করে ১০ ডিসেম্বর তারিখ নির্ধারণ করেছেন।