নিজস্ব প্রতিবেদক: বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান অভিযোগ করেছেন, সরকার ১৪০০ মানুষের রক্তের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে এবং জনগণের সঙ্গে দেওয়া কোনো প্রতিশ্রুতিই রাখেনি।

শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টার দিকে টাঙ্গাইলের নগর জালফৈ বাইপাস রোডে ১১ দলীয় ঐক্যের ঢাকা-রংপুর লং মার্চের পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

টাঙ্গাইল জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির ও ১১ দলীয় ঐক্যের আহ্বায়ক আহসানের সভাপতিত্বে এ পথসভা অনুষ্ঠিত হয়। এর আগে লং মার্চের বহর গাজীপুরের পথসভা শেষে টাঙ্গাইলে পৌঁছায়।

পথসভায় শফিকুর রহমান বলেন, ‘চৌদ্দশ মানুষের রক্তের বিনিময়ে এই সরকার দাঁড়িয়ে আছে। কিন্তু এই সরকার জনগণের সঙ্গে দেওয়া একটি কথাও রাখেনি।’

তিনি আরও বলেন, ‘সরকার জনগণের রায়ের সঙ্গে অন্যায় করেছে। ৭০ শতাংশ মানুষ যে গণরায় দিয়েছে, সেই রায়কে তারা অস্বীকার করেছে। তারা স্বৈরাচারের পথে হাঁটছে।’

জামায়াত আমিরের অভিযোগ, সরকারের পক্ষ থেকে কোথাও অনির্বাচিত কাউকে বসানো হবে না বলা হলেও পরবর্তীতে প্রত্যেক জেলায় নিজেদের পছন্দমতো জেলা প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার, বিদ্যুৎ, তেল, গ্যাস ও সার সংকট নিরসন, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্যবৃদ্ধি রোধ, দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও দখলদারি বন্ধ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন, সংকীর্ণ দলীয়করণ বন্ধ এবং তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের দাবিতে ১১ দলীয় ঐক্য এই লং মার্চ করছে।

এর আগে ঢাকা-চট্টগ্রাম লং মার্চে ১১ দলীয় ঐক্যের ছয় দফা দাবি ছিল। এবার ঢাকা-রংপুর লং মার্চে দাবির সংখ্যা আটটি করা হয়েছে।

পথসভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম, এলডিপির চেয়ারম্যান ও সাবেক মন্ত্রী কর্নেল (অব.) অলি আহমেদ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির আল্লামা মামুনুল হক, জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ারসহ ১১ দলীয় ঐক্যের শীর্ষ নেতারা।

টাঙ্গাইলের পথসভা শেষে লং মার্চের বহর সিরাজগঞ্জের হাটিকুমরুল মোড়, বগুড়ার মাটিডালি বিমান মোড় ও গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে পথসভায় অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এরপর রংপুর জিলা স্কুল মাঠে লং মার্চের সমাপনী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।