আন্তর্জাতিক ডেস্ক: সৌদি আরবের বেসামরিক ও জ্বালানি অবকাঠামোয় ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের হামলার নিন্দা জানিয়েছে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ।
শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) দেওয়া এক বিবৃতিতে নিরাপত্তা পরিষদের সদস্যরা সৌদি আরবে হামলায় নারী ও শিশুসহ বেসামরিক মানুষ আহত হওয়ার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেন। খবর আনাদোলু এজেন্সির।
বিবৃতিতে নিরাপত্তা পরিষদ গত ৭ আগস্টের বিবৃতির কথা উল্লেখ করে জানায়, ওই সময়ও সৌদি আরবে হুতিদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা এবং বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার নিন্দা জানানো হয়েছিল। এবার লোহিত সাগর ও বাব আল-মান্দাব প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের ওপর হামলা ও হুমকিরও নিন্দা জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে জাহাজ ও নাবিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার গুরুত্ব তুলে ধরা হয়।
হুতিদের ‘অবিলম্বে সামরিক উত্তেজনা বাড়ানো বন্ধ’ এবং বেসামরিক মানুষ ও স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত করে এমন সব ধরনের হামলা বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে নিরাপত্তা পরিষদ।
ইয়েমেনে বেসামরিক মানুষের নিহত ও আহত হওয়ার খবরে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে পরিষদ। জাতিসংঘের মানবিক বিষয়ক সমন্বয় কার্যালয়ের তথ্যের বরাতে বিবৃতিতে বলা হয়, সেপ্টেম্বরের শুরু থেকে ইয়েমেনে অন্তত ১ লাখ ২৫ হাজার মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।
নিরাপত্তা পরিষদ সতর্ক করে বলেছে, সংঘাত আরও বাড়লে ইয়েমেনের ইতোমধ্যে ভয়াবহ মানবিক পরিস্থিতির আরও অবনতি হতে পারে। দেশটিতে পূর্ণাঙ্গ, নিরাপদ, দ্রুত ও বাধাহীন মানবিক সহায়তা পৌঁছানোর সুযোগ নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
এ ছাড়া আটক ব্যক্তিদের নিঃশর্ত মুক্তির দাবিও জানিয়েছে পরিষদ। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে জাতিসংঘের ৭৩ জন কর্মী ছাড়াও বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থা, নাগরিক সমাজ ও কূটনৈতিক মিশনের কর্মী রয়েছেন বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
হুতিদের কাছে অস্ত্র, সামরিক প্রযুক্তিগত সহায়তা, প্রশিক্ষণ ও অর্থায়ন পৌঁছানো ঠেকাতে ইয়েমেন সরকারকে বাস্তবভিত্তিক সহযোগিতা করার জন্য সদস্য রাষ্ট্রগুলোর প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে নির্দিষ্ট ব্যক্তিদের ওপর আরোপিত অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা মেনে চলার দায়িত্বের কথাও স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়।
বিবৃতিতে সৌদি আরবের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেছে নিরাপত্তা পরিষদ। আন্তর্জাতিক আইনের অধীনে সৌদি আরবের আত্মরক্ষার অধিকার রয়েছে বলেও স্বীকার করেছে পরিষদ।
একই সঙ্গে ইয়েমেনের ঐক্য, সার্বভৌমত্ব, স্বাধীনতা ও ভৌগোলিক অখণ্ডতার প্রতি নিজেদের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ। সদস্যরা বলেন, সহিংসতা, জবরদস্তি বা শক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে ইয়েমেনে টেকসই শান্তি প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়।