ফ্রন্টলাইন বাংলাদেশ | নিজস্ব প্রতিবেদক
রাজধানীর গুলশানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের মিছিল ঠেকাতে ব্যর্থ হওয়ার বিতর্কের মধ্যে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) সব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) কড়া সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে। যেকোনো মূল্যে কার্যক্রম নিষিদ্ধ দলটির মিছিল বা অপতৎপরতা ঠেকাতে হবে বলে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অন্যথায় সংশ্লিষ্ট থানার ওসিকে জবাবদিহির আওতায় আসতে হবে বলে সতর্ক করা হয়েছে।
সোমবার ডিএমপির মাসিক অপরাধ পর্যালোচনা সভায় থানার ওসিদের এ নির্দেশনা দেওয়া হয় বলে সভা সূত্রে জানা গেছে।
সভা সূত্র জানায়, গুলশানে আওয়ামী লীগের মিছিলের ঘটনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। গত শুক্রবার মিছিলটি শুরু হওয়ার মাত্র আট মিনিট আগে একটি গোয়েন্দা সংস্থা থেকে পুলিশ তথ্য পেয়েছিল বলে সভায় জানানো হয়। তথ্য পাওয়ার পরই মিছিল ও সম্ভাব্য অপতৎপরতা ঠেকাতে গুলশান থানা পুলিশ উদ্যোগ নেয় বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান।
ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে সভায় ডিএমপির বিভিন্ন বিভাগের অতিরিক্ত কমিশনার, যুগ্ম কমিশনার, ক্রাইম বিভাগের উপকমিশনার এবং ৫০ থানার ওসিরা উপস্থিত ছিলেন। সভায় আগস্ট মাসে রাজধানীতে সংঘটিত বিভিন্ন অপরাধ পরিস্থিতি পর্যালোচনা করা হয় এবং ভবিষ্যতে অপরাধ প্রতিরোধে মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের বিভিন্ন নির্দেশনা দেওয়া হয়।
সভায় উপস্থিত কর্মকর্তাদের বরাতে জানা গেছে, নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের মিছিল ঠেকানোর পাশাপাশি ছিনতাই ও কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা বন্ধেও ওসিদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। দায়িত্ব পালনে কোনো ধরনের গড়িমসি বা শৃঙ্খলাভঙ্গ বরদাশত করা হবে না বলেও সতর্ক করা হয়।
গুলশানে মিছিল ও পুলিশের ওপর ককটেল নিক্ষেপের ঘটনায় কোনো পুলিশ কর্মকর্তাকে এককভাবে দায়ী করা হয়নি বলে সভায় উপস্থিত কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। তবে কোথায় কোথায় তথ্যের ঘাটতি ছিল, তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। বিশেষ করে মিছিল শুরুর মাত্র আট মিনিট আগে তথ্য পাওয়ার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে পর্যালোচনা করা হয়।
ভবিষ্যতে রাজধানীর কোথাও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা সংগঠিত হয়ে মিছিল বা অন্য কোনো কার্যক্রম পরিচালনা করতে না পারে, সে বিষয়ে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
হোটেল ও রাজধানীর প্রবেশপথে নজরদারি বাড়ানোর নির্দেশ
সভায় আবাসিক হোটেলসহ বিভিন্ন হোটেলের অতিথিদের তালিকা নিয়মিত সংগ্রহ ও সংরক্ষণের নির্দেশ দেওয়া হয়। হোটেল কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে অতিথিদের তথ্য সংগ্রহের কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও বলা হয়েছে।
ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমেদ বলেন, দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে অপরাধীরা যাতে ঢাকায় এসে অপরাধ সংঘটিত করতে না পারে, সে জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। রাজধানীর প্রবেশপথ ও গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় ব্লক চেকসহ নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদারের নির্দেশ দেন তিনি।
সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের বিষয়ে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি অপরাধ সংঘটনের আগেই তাদের গতিবিধি নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশনাও দেওয়া হয়।
থানায় ওসিদের উপস্থিতি নিশ্চিত করার নির্দেশ
সভা সূত্র জানায়, সম্প্রতি তেজগাঁও থানায় পরিদর্শনে গিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী থানার ওসিকে পাননি। পরে পল্টন থানায় গিয়ে একই ধরনের পরিস্থিতির মুখোমুখি হন আইজিপি আলী হোসেন ফকির ও ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমেদ। এর পর তেজগাঁও থানার ওসি ক্যশৈন্যু মারমা এবং পল্টন মডেল থানার ওসি মোহাম্মদ মোস্তফা কামাল খানকে প্রত্যাহার করা হয় বলে সভায় বিষয়টি আলোচনায় আসে।
ওসিদের থানায় নিয়মিত উপস্থিত থেকে দায়িত্ব পালনের ওপর জোর দেন ডিএমপি কমিশনার। ডিউটির সময়ে নির্ধারিত পোশাক পরা, থানার পরিবেশ ঠিক রাখা এবং পুলিশ সদস্যদের শৃঙ্খলা বজায় রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়।
জরুরি প্রয়োজনে থানার বাইরে যেতে হলে জিডিতে নোট করার পাশাপাশি দায়িত্ব পালনের জন্য পরবর্তী জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দিয়ে যাওয়ার নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।
কোনো এলাকায় নিরাপত্তার ঘাটতি নয়
সভায় এলাকাভিত্তিক দায়িত্ব ভাগ করে ডিউটি করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে থানা পুলিশকে। কোনো এলাকায় নিরাপত্তার ক্ষেত্রে শূন্যতা তৈরি করা যাবে না এবং দায়িত্ব পালনে কোনো ঘাটতি রাখা যাবে না বলে কর্মকর্তাদের সতর্ক করা হয়।
অপরাধ প্রতিরোধে ডিএমপির কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি), গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) ও থানা পুলিশকে সমন্বয়ের মাধ্যমে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।