ফ্রন্টলাইন বাংলাদেশ | নিজস্ব প্রতিবেদক

সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে বিদেশে অর্থ পাচার, নিয়োগ-বাণিজ্য, টেন্ডার সিন্ডিকেট এবং উন্নয়ন প্রকল্পের ব্যয় অস্বাভাবিকভাবে বাড়িয়ে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

দুদকের অনুসন্ধানের সিদ্ধান্তসংক্রান্ত একটি নথির বরাত দিয়ে এসব তথ্য জানিয়েছে কালবেলা। দুদকের সহকারী পরিচালক (জনসংযোগ) তানজির আহমেদও বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেছেন, আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগের অনুসন্ধান শুরুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

দুদকে জমা দেওয়া অভিযোগে দাবি করা হয়েছে, দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জিত অর্থ দিয়ে আসিফ মাহমুদ পর্তুগালে জমি কেনা, দুবাইয়ের একটি গ্রুপে বিনিয়োগ এবং সুইস ব্যাংকে অর্থ রাখাসহ বিভিন্নভাবে বিদেশে সম্পদ গড়ে তুলেছেন। অভিযোগে বিভিন্ন দেশে বিপুল পরিমাণ অর্থ পাচারেরও দাবি করা হয়েছে।

এ ছাড়া তার দুই ভগ্নিপতি ও এক ভাগ্নের মাধ্যমে বিদেশে অর্থ পাচার, বিলাসবহুল ফ্ল্যাট ও গাড়ি ব্যবহার এবং হেলিকপ্টারে ভ্রমণের মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় অর্থ অপচয়ের অভিযোগও করা হয়েছে।

নিয়োগ-বাণিজ্যের অভিযোগ

অভিযোগে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক নিয়োগ এবং বিভিন্ন জেলায় জেলা প্রশাসক পদায়নে অর্থ লেনদেনের দাবি করা হয়েছে। বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সরকারি পদে নিয়োগের ক্ষেত্রেও ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে।

এর মধ্যে ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী এবং গাজীপুর সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা নিয়োগে পৃথক অঙ্কের অর্থ লেনদেনের অভিযোগ রয়েছে।

যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের নিয়োগ, বদলি ও পদোন্নতিতেও কোটি কোটি টাকা লেনদেনের অভিযোগ করা হয়েছে বলে নথিতে উল্লেখ রয়েছে।

টেন্ডার ও প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ

অভিযোগ অনুযায়ী, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে দায়িত্ব পালনকালে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের টেন্ডার থেকে ১০ থেকে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত কমিশন নেওয়া হয়েছে। নারায়ণগঞ্জ ও কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের টেন্ডার প্রক্রিয়াতেও সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ করা হয়েছে।

এ ছাড়া গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন ও সেতু নির্মাণ প্রকল্পের ব্যয় বাড়িয়ে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে। ঢাকা ওয়াসার সায়েদাবাদ পানি শোধনাগার প্রকল্পের তৃতীয় ধাপে অস্বাভাবিক ব্যয় বৃদ্ধি এবং শেখ রাসেল মিনি স্টেডিয়াম প্রকল্পে ব্যয় বাড়িয়ে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগও অনুসন্ধানের আওতায় এসেছে।

স্বজন ও কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধেও অভিযোগ

অভিযোগে আসিফ মাহমুদের বাবা বিল্লাল হোসেন ও এপিএস মোয়াজ্জেম হোসেনের বিরুদ্ধে ঠিকাদারদের সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ এবং স্থানীয় প্রশাসনের ওপর প্রভাব খাটিয়ে অর্থ সংগ্রহের অভিযোগ করা হয়েছে।

এ ছাড়া তার পিও মাহফুজুল আলম ভূঁইয়ার বিরুদ্ধেও ঘুষ লেনদেনে তদবির ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে।

দুদক এসব অভিযোগের ভিত্তিতে অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে অনুসন্ধান শুরুর সিদ্ধান্ত অভিযোগগুলোর সত্যতা প্রমাণিত হয়েছে—এমন নয়। অনুসন্ধানের মাধ্যমে অভিযোগের সত্যতা, অর্থের উৎস ও সংশ্লিষ্টতার বিষয়গুলো যাচাই করা হবে।