ফ্রন্টলাইন বাংলাদেশ | নিজস্ব প্রতিবেদক
ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গালাগাল, মানহানিকর বক্তব্য ও আপত্তিকর কনটেন্ট নিয়ন্ত্রণে নতুন আইন তৈরির কাজ চলছে বলে জানিয়েছেন তথ্যমন্ত্রী আন্দালিভ রহমান পার্থ। তবে প্রস্তাবিত আইনটি কোনোভাবেই মতপ্রকাশের স্বাধীনতা বা সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা খর্ব করার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হবে না বলে আশ্বস্ত করেছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) ৩১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, গত ১৭ বছরে ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্টসহ বিভিন্ন আইন সংবাদমাধ্যম বা সংবাদপত্রের ওপর চাপ প্রয়োগ ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে ব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে। ভবিষ্যতে নতুন কোনো আইনের ক্ষেত্রেও যাতে এ ধরনের অপব্যবহারের সুযোগ তৈরি না হয়, সে বিষয়ে সরকার সতর্ক রয়েছে।
তিনি বলেন, আইনের শব্দচয়ন ও ব্যাখ্যার সুযোগ এমনভাবে নির্ধারণ করা হবে, যাতে ভবিষ্যতে কোনো সরকার বা কর্তৃপক্ষ সেটিকে অপব্যবহার করতে না পারে।
আন্দালিভ রহমান পার্থ বলেন, সরকারের মূল লক্ষ্য সামাজিক সম্প্রীতি বজায় রাখা এবং জননৈতিকতার অবক্ষয় রোধ করা। বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গণতন্ত্র ও মতপ্রকাশের নামে গালাগাল ও অশালীন ভাষার ব্যবহার কীভাবে নিয়ন্ত্রণ করা যায় এবং একই সঙ্গে মতপ্রকাশ ও সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা কীভাবে সুরক্ষিত রাখা যায়—এ নিয়ে আলোচনা চলছে।
তিনি বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে মানহানিকর বক্তব্য বা তথ্য প্রকাশের পাশাপাশি সেটি পুনরায় শেয়ার বা প্রচার করার বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘যেকোনো কনটেন্ট পেলেই শেয়ার করে দেওয়া, মানহানিকর বক্তব্য বা কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে মানহানিকর তথ্য পুনরায় প্রচার—এটাও একটা মানহানিকর বিষয়।’
নতুন আইন কাউকে দমন বা কণ্ঠরোধের উদ্দেশ্যে করা হচ্ছে না জানিয়ে তিনি বলেন, বিষয়টি এখনো খসড়া প্রণয়ন ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনার পর্যায়ে রয়েছে। বিভিন্ন ক্ষেত্রের প্রতিনিধিদের সঙ্গে পরামর্শ করে এমন একটি খসড়া তৈরির চেষ্টা চলছে, যাতে ভবিষ্যতে আইনটি অপব্যবহারের সুযোগ না থাকে।
তিনি আরও বলেন, অনলাইনে আপত্তিকর আচরণ নিয়ন্ত্রণে শুধু আইন করলেই হবে না; মানুষের মধ্যে সামাজিক সচেতনতা বাড়ানোও জরুরি। এ বিষয়ে সরকার সচেতনতামূলক কর্মসূচি নেওয়ার বিষয়েও কাজ করছে।