হরমুজ প্রণালিতে দুটি মার্কিন জাহাজ, আটটি তেলবাহী ট্যাংকার ও আরও ১০টি ‘নিয়ম লঙ্ঘনকারী’ জাহাজে হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)।
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিমের প্রতিবেদনে এ দাবি করা হয়। আইআরজিসির ভাষ্য, যুক্তরাষ্ট্র পাঁচটি ইরানি তেলবাহী ট্যাংকারে হামলা চালানোর পর পাল্টা জবাব হিসেবে এসব হামলা চালানো হয়েছে।
আইআরজিসি আরও দাবি করেছে, তাদের অ্যারোস্পেস ফোর্স ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে মার্কিন নৌবাহিনীর দুটি ডেস্ট্রয়ার—ইউএসএস ডেলবার্ট ডি. ব্ল্যাক (DDG-119) এবং ইউএসএস জন পল জোন্স (DDG-53)—কে লক্ষ্যবস্তু করেছে। তাসনিম ও আলজাজিরার প্রতিবেদনে আইআরজিসির বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, ইরান এসব জাহাজে ‘উল্লেখযোগ্য ক্ষয়ক্ষতি’ করার দাবি করেছে। তবে এ ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি এবং যুক্তরাষ্ট্র এ দাবির বিষয়ে নিশ্চিত কোনো মন্তব্য করেনি।
আইআরজিসি এক বিবৃতিতে দাবি করেছে, যুক্তরাষ্ট্রের ‘আগ্রাসন ও শত্রুতার’ জবাব হিসেবেই এসব হামলা চালানো হয়েছে। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালির একটি ‘নিষিদ্ধ ও অনিরাপদ’ এলাকায় প্রবেশের চেষ্টা করা আরও ১০টি জাহাজকে লক্ষ্যবস্তু করার কথাও জানিয়েছে তারা।
ইরানের দাবি, এসব জাহাজ যুক্তরাষ্ট্রের উসকানি ও সহযোগিতায় ওই এলাকায় প্রবেশের চেষ্টা করছিল। আইআরজিসি আরও বলেছে, হরমুজ প্রণালি এখনো তাদের ‘শক্তিশালী ও কর্তৃত্বপূর্ণ নজরদারি ও ব্যবস্থাপনার’ অধীনে রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টা হামলা
এর আগে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (CENTCOM) জানিয়েছিল, ইরানের আইআরজিসি গত দুই দিনে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে একটি মার্কিন যুদ্ধজাহাজে দুবার হামলার চেষ্টা করেছে। মার্কিন সামরিক বাহিনীর দাবি, জাহাজটি হামলা এড়িয়ে যেতে সক্ষম হয় এবং কোনো মার্কিন সেনা হতাহত হয়নি। এরপর যুক্তরাষ্ট্র পাঁচটি ইরানি অপরিশোধিত তেলবাহী ট্যাংকার ধ্বংস বা অচল করে দেয়।
এই পাল্টাপাল্টি হামলার মধ্যেই হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। বুধবার প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার মাত্র ছয়টি পণ্যবাহী জাহাজ প্রণালিটি অতিক্রম করেছে, যা গত ১০ দিনের গড়ের তুলনায় অনেক কম।
তেলের বাজারে বড় প্রভাব
মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত ও হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল নিয়ে অনিশ্চয়তার প্রভাব পড়েছে আন্তর্জাতিক তেলের বাজারে। বুধবার ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দাম প্রায় ১ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৯৯ দশমিক ২২ ডলারে পৌঁছায়। এর আগে দিনের শুরুতে দাম ৯৯ ডলারের কাছাকাছি উঠেছিল।
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের পাল্টাপাল্টি সামরিক পদক্ষেপ অব্যাহত থাকায় মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।