ইন্দোনেশিয়ার আনাক ক্রাকাতোয়া আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতের ছাইয়ে দেশটির বিমান চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। রাজধানী জাকার্তাসহ সাতটি বিমানবন্দর বন্ধ থাকায় প্রায় ১ লাখ ৭০ হাজার যাত্রী আটকা পড়েছেন।
পরিবহন মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আগ্নেয়গিরির ছাইয়ের কারণে আটটি বিমানবন্দরে এ পর্যন্ত ১ হাজার ৫৫৮টি ফ্লাইট বিলম্বিত হয়েছে। এর মধ্যে ৯০০টির বেশি ফ্লাইট জাকার্তার সুকার্নো-হাত্তা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে আসা-যাওয়া করত।
সোমবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত জাকার্তার প্রধান বিমানবন্দরের কার্যক্রম বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। লাম্পুং ও পশ্চিম জাভার কয়েকটি বিমানবন্দরও বন্ধ রয়েছে।
পরিবহনমন্ত্রী দুডি পুরওয়াগান্ধি বলেন, আবহাওয়ার পরিস্থিতি পরিবর্তনশীল হওয়ায় কখন বিমান চলাচল স্বাভাবিক হবে, তা নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।
জাভা ও সুমাত্রা দ্বীপের মধ্যবর্তী প্রণালিতে অবস্থিত আনাক ক্রাকাতোয়া শুক্রবার গভীর রাত থেকে অগ্ন্যুৎপাত শুরু করে। এরপর আগ্নেয়গিরির ছাই জাকার্তা ও আশপাশের এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। রোববার রাত ৮টা ২৩ মিনিটেও অগ্ন্যুৎপাত রেকর্ড করা হয়েছে।
ভূতাত্ত্বিক সংস্থা সতর্ক করেছে, আগামী দিনগুলোতে আরও অগ্ন্যুৎপাত হতে পারে। এদিকে ছাইয়ের প্রভাবে জাকার্তার অনেক স্কুলে সশরীরে ক্লাসের পরিবর্তে অনলাইনে পাঠদান করা হয়েছে।
আগ্নেয়গিরির ছাই সুমাত্রার দক্ষিণাঞ্চলের বান্দার লামপুং শহরেও পৌঁছেছে। এতে সড়ক ও নৌযান চলাচলেও বিঘ্ন ঘটেছে। আগ্নেয়গিরির চারপাশে তিন কিলোমিটার ব্যাসার্ধের এলাকায় জাহাজ চলাচল নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
তবে সাম্প্রতিক অগ্ন্যুৎপাত থেকে সুনামির আশঙ্কা নেই বলে জানিয়েছে ভূতাত্ত্বিক সংস্থা।
আনাক ক্রাকাতোয়া ১৮৮৩ সালের ভয়াবহ ক্রাকাতোয়া অগ্ন্যুৎপাতের পর তৈরি হওয়া বিশাল গহ্বরের মধ্যে গড়ে ওঠে। ওই অগ্ন্যুৎপাতে আনুমানিক ৩৫ হাজার মানুষ নিহত হন। ২০১৮ সালে আনাক ক্রাকাতোয়ার একটি অংশ ধসে সৃষ্ট সুনামিতে ৪২৯ জন নিহত হন।