বিনোদন ডেস্ক

জনপ্রিয় ওয়েব সিরিজ ‘মির্জাপুর’ এবার হাজির হয়েছে বড় পর্দায়। প্রায় সাত বছর পর শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেয়েছে ‘মির্জাপুর: দ্য মুভি’। মুক্তির প্রথম দিনেই সিনেমাটি বক্স অফিসে দারুণ সাড়া ফেলেছে। প্রথম দিনে ছবিটির আয় প্রায় ২৪ কোটি ৭৫ লাখ রুপি।

পঙ্কজ ত্রিপাঠী অভিনীত সিনেমাটি বিশেষ করে উত্তর প্রদেশ, বিহার ও দিল্লির দর্শকদের মধ্যে ভালো সাড়া পেয়েছে। সকালের শোগুলোতেও ছিল উল্লেখযোগ্য দর্শক উপস্থিতি।

বক্স অফিসের হিসাবে, মুক্তির প্রথম দিনে সিনেমাটি প্রদর্শিত হয়েছে ১১ হাজার ১৩৫টি শোতে। প্রেক্ষাগৃহে গড় আসন পূর্ণতার হার ছিল ৪২ দশমিক ৮১ শতাংশ।

দিন গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে দর্শক উপস্থিতিও বাড়তে থাকে। সকালের শোগুলোতে আসন পূর্ণতার হার ছিল ২৫ দশমিক ৮৫ শতাংশ। বিকেলে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৪১ দশমিক ১৫ শতাংশে এবং সন্ধ্যার শোগুলোতে ৪১ দশমিক ৮৫ শতাংশে।

তবে সবচেয়ে বেশি দর্শক সাড়া পাওয়া গেছে রাতের শোগুলোতে। এ সময় আসন পূর্ণতার হার পৌঁছে যায় ৬২ দশমিক ৩৮ শতাংশে।

প্রথম দিনের আয় বিবেচনায় ২০২৬ সালে মুক্তি পাওয়া হিন্দি সিনেমাগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ উদ্বোধনী আয়ের তালিকায় চতুর্থ স্থানে উঠে এসেছে ‘মির্জাপুর: দ্য মুভি’।

মুক্তির আগে বাণিজ্য বিশ্লেষকেরা সিনেমাটির প্রথম দিনের আয় ১৮ থেকে ২০ কোটি রুপি হতে পারে বলে ধারণা করেছিলেন। তবে মুক্তির পর দর্শকদের ইতিবাচক সাড়া সেই পূর্বাভাসকে ছাড়িয়ে গেছে।

সিনেমাটির বর্তমান গতি অব্যাহত থাকলে প্রথম দিনের আয় ২৫ কোটি রুপি ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এমনটি হলে ‘সাইয়ারা’র ২২ কোটি রুপি এবং ‘আওরাপন ২’-এর ২১ কোটি ৫০ লাখ রুপির প্রথম দিনের আয়কেও ছাড়িয়ে যাবে ছবিটি।

অ্যামাজন এমজিএম স্টুডিওস ও এক্সেল এন্টারটেইনমেন্টের ব্যানারে নির্মিত হয়েছে ‘মির্জাপুর: দ্য মুভি’। সিনেমাটি পরিচালনা করেছেন গুরমিত সিং এবং চিত্রনাট্য লিখেছেন পুনীত কৃষ্ণা।

ছবিটির প্রযোজক রিতেশ সিধওয়ানি ও ফারহান আখতার। প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেছেন পঙ্কজ ত্রিপাঠী, আলী ফজল ও দিব্যেন্দু শর্মা।

সিনেমাটি দেখে দর্শকদের কাছ থেকেও এসেছে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া। বিশেষ করে পঙ্কজ ত্রিপাঠীর অভিনয় প্রশংসিত হয়েছে। আলী ফজলকেও তার অন্যতম সেরা অভিনয় উপহার দিতে দেখা গেছে। দিব্যেন্দু শর্মার অভিনয়ও দর্শকদের নজর কেড়েছে।

সেন্ট্রাল বোর্ড অব ফিল্ম সার্টিফিকেশনের (সিবিএফসি) তথ্য অনুযায়ী, ‘মির্জাপুর: দ্য মুভি’র দৈর্ঘ্য ৩ ঘণ্টা ১৭ মিনিট ১৯ সেকেন্ড।

‘মির্জাপুর’ সিরিজে সংলাপ, সহিংসতা ও রক্তাক্ত দৃশ্য বরাবরই আলোচনায় ছিল। বড় পর্দার সংস্করণেও এসব উপাদান থাকায় সিনেমাটি ‘এ’ সার্টিফিকেট পেয়েছে।