আমার ভার্সিটিতে ভর্তি হওয়ার সময়টাতেই আব্বুর শরীর ভেঙে পরে, ফার্স্ট ইয়ারের শেষ দিকে আসতে আসতেই আব্বার সব চুল সাদা হয়ে যায়, সারা মুখে বয়সের দাগ আর একের পর এক অসুখে বিধ্বস্ত শরীর, 
আমি অনেক ভয় পাই, এবং ধীরে ধীরে সেই ভয় বাড়তে বাড়তে একসময় আমাকে পাগল করে ফেলার উপক্রম হয়, কারণ 
ভার্সিটির সময়টাকে সবাই জীবনের শ্রেষ্ঠ সময় ভাবে, কিন্তু কেউ হয়তো খেলায় করে না, এই বয়সটা মূলত বাবা মা হারানোর বয়স, 
সন্তান যখন পরিপূর্ণ যৌবনের প্রথম স্তরে প্রবেশ করে তখন বাবা মা জীবনের ভাগে শেষ ভাগে চলে আসে, তাদের তখন বৃদ্ধ বয়স এবং মৃত্যুর প্রস্তুতি শুরু হয়,
আমি ভার্সিটিতে ভর্তি হওয়ার পর থেকে নিয়মিতই দেখেছি, সিনিয়ররা তাদের বাবা মাকে হারিয়েছে, আমার ক্লাসমেটরা তাদের বাবা মাকে নিয়ে হাসপাতালে দৌড়াচ্ছে, ফেসবুকে তো নিয়মিতই কারো না কারো মৃত্যু সংবাদ আসছেই,
ছোটবেলার সব বন্ধু বান্ধবদের সবার বাবা মাই হয় অসুস্থ না হলে মারা গেছে, অনেকের তো বাবা মার সাথে ফুপি, মামি এবং চাচিও মারা যাচ্ছে, 
তাই আমি অনেক ভয় পাই, আমি জানি এটা হারানোর বয়স আমার বাবা মাও সারাজীবন বেঁচে থাকবে না আমাকে ছেড়ে তারা চলে যাবে, 
তাই মনকে শক্ত করছি, অনেক চেষ্টা করছি বাস্তবতা কে মেনে নিতে, কিন্তু পারছি না, 
জীবনে হারানোর বেদনা সবাই ভোগ করে, আমাকেও করতে হবে ইহাই পৃথিবীর নির্মম বাস্তবতা, কিন্তু আমি চাই না এই কঠিন সত্যটা স্বীকার করতে, 
এতটা বাস্তববাদী আমি পারবো না।