নিজস্ব প্রতিবেদক
জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন ও সংবিধান সংশোধন প্রক্রিয়ায় বিরোধী দল অংশ নিলে সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতির পদ তাদের আসনের আনুপাতিক হারে দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদ অধিবেশনে অনির্ধারিত আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ কথা বলেন। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।
বিরোধীদলের উপনেতা সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে আসনের অনুপাতে সভাপতি পদ না পাওয়ার বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করার পর তার বক্তব্যের জবাব দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
তিনি বলেন, সংবিধান কিংবা সংসদের কার্যপ্রণালি বিধিতে বিরোধীদলীয় সদস্যদের আসনের আনুপাতিক হারে স্থায়ী কমিটির সভাপতি করার বাধ্যবাধকতা নেই। অতীতের সংসদেও এ ধরনের কোনো নজির নেই বলে দাবি করেন তিনি।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, বিদ্যমান প্রথা ও রাজনৈতিক সমঝোতার ভিত্তিতে বিরোধীদলীয় সদস্যদের সংখ্যার অনুপাতে প্রায় ২৬ শতাংশ কমিটিতে তাদের স্থান দেওয়া হয়েছে। তবে এই বিষয়টিকে বিরোধী দল আইনগত বা সাংবিধানিক অধিকার হিসেবে দাবি করতে পারে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তবে জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের পর পরিস্থিতি ভিন্ন হবে বলে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তার ভাষ্য, জুলাই জাতীয় সনদ একটি রাজনৈতিক সমঝোতার দলিল এবং উভয় পক্ষ এতে স্বাক্ষর করেছে। সনদ অনুযায়ী, একটি কমিটির সভাপতি পদাধিকার বলে স্পিকার হওয়ায় সেটি বাদ দিয়ে অন্যান্য কমিটির ক্ষেত্রে আনুপাতিক হারে বিরোধী দলকে সভাপতির পদ দেওয়া হবে।
তিনি বলেন, জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন ও সংবিধান সংশোধন হলে সংসদীয় কমিটিগুলো পুনর্গঠন করে নির্ধারিত অনুপাতে সভাপতির পদ দেওয়া হবে।
বিরোধী দলকে সংসদের বাইরে আন্দোলনের পরিবর্তে সংসদীয় প্রক্রিয়ায় অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সংবিধান সংশোধন কমিটিতে বিরোধী দলের জন্য পাঁচটি আসন রাখা হয়েছে। তারা সংস্কার চায় এবং সরকার সংবিধান সংশোধন চায়—দুটির লক্ষ্য একই বলে মন্তব্য করেন তিনি।
এ সময় তিনি বলেন, বিরোধী দল সংবিধান সংশোধন কমিটিতে অংশ নিলে সরকার সেটিকে জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নে তাদের সহযোগিতা হিসেবে বিবেচনা করবে। একই সঙ্গে সহযোগিতা না করে আগে থেকেই কমিটির সভাপতির পদে নির্দিষ্ট হিস্যা দাবি করাকে পরস্পরবিরোধী অবস্থান বলে মন্তব্য করেন তিনি।
সংসদে সরকারের দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে বিরোধীদলের উপনেতার উদ্বেগেরও জবাব দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি ২০০১ সালের সংসদে বিএনপির দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার উদাহরণ তুলে ধরেন। তার দাবি, সে সময়ও তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বিলুপ্ত করা হয়নি।
১৯৭৯ সালের সংসদের প্রসঙ্গ তুলে ধরে তিনি আরও বলেন, সে সময়ও বিএনপির দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা ছিল এবং বহুদলীয় রাজনীতি, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, বর্তমানে সংসদীয় স্থায়ী কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এর মধ্যে মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত ৩৯টি এবং সংসদীয় আরও প্রায় ১১টি কমিটি রয়েছে।
এদিকে বিরোধী দলীয় উপনেতার বক্তব্যের পর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সংসদে উপস্থিতি নিয়েও মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, বিরোধী দলের উপনেতা তার বক্তব্যের জবাব শুনতে চাচ্ছেন না এবং বিরোধীদলীয় সদস্যরা অধিবেশন থেকে চলে গেছেন। তবে তারা আনুষ্ঠানিকভাবে ওয়াকআউট করেছেন কি না, সে বিষয়েও মন্তব্য করেন তিনি।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যের মধ্য দিয়ে সংসদীয় কমিটির সভাপতির পদ বণ্টন নিয়ে সরকারি অবস্থান এবং জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের সঙ্গে এ বিষয়টির সম্ভাব্য সম্পর্কের কথা সামনে এসেছে। তবে কমিটিগুলো পুনর্গঠনের সময় আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব কীভাবে কার্যকর হবে, তা সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক ও সংসদীয় প্রক্রিয়ার মাধ্যমে চূড়ান্ত হওয়ার বিষয়।